ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeবিনোদনমা-বাবার কবরে শায়িত ফরিদা পারভীন

মা-বাবার কবরে শায়িত ফরিদা পারভীন

‘লালনকন্যা’খ্যাত শিল্পী ফরিদা পারভীনকে কুষ্টিয়ায় দাফন করা হয়েছে। গতকাল রোববার এশার নামাজ শেষে কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্তানে মা-বাবার কবরে তাঁকে দাফন করা হয়।

গোরস্তান ময়দানে জানাজায় অংশ নেন স্বামী গাজী আবদুল হাকিম, কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন, সদরের ইউএনও রোকুনউজ্জামান প্রমুখ। ইমামতি করেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রুহুল আমিন।

এর আগে ঢাকা থেকে মরদেহ রাতে কুষ্টিয়া পৌঁছলে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা ফুল দিয়ে শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

গত শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ফরিদা পারভীন। গতকাল রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদা পারভীনের মরদেহ রাখা হয়। তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিল্পীকে একনজর দেখতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করেন। শ্রদ্ধা জানাতে এসে সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। ফরিদা পারভীনের শেষ শ্রদ্ধার আয়োজন করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়; সহযোগিতায় ছিল জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।

গুণী শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান, বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক উজ্জল, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, দেশের বাইরে থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা প্রমুখ।

শহীদ মিনার থেকে ফরিদা পারভীনের মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে তাঁর জানাজা হয়। পরে মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে পৌঁছায়।

গোরস্তানের খাদেম নূর ইসলাম জানান, ফরিদা পারভীনের বাবা দেলোয়ার হোসেন ১৯৯৬ সালে মারা যান। এর পর তাঁর মা রৌফা বেগম মারা গেলে স্বামীর কবরে তাঁকে দাফন করা হয়। রোববার মা-বাবার কবরে দাফন করা হলো ফরিদা পারভীনকে।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় ফরিদা পারভীনের জন্ম হয়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৮ সালে তিনি পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন। শৈশবে মাগুরায় থাকাকালীন ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে ফরিদার গানের হাতেখড়ি। পরে নজরুলসংগীত, আধুনিক গান সবই করেছেন। কিন্তু তাঁর জীবনের আসল পরিচয় লালনসংগীতের শিল্পী হিসেবে।

কুষ্টিয়ায় অবস্থানকালে পারিবারিক বন্ধু মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে প্রথম লালনের গান শেখা ‘সত্য বল সুপথে চল’। তার পর থেকে ফরিদা পারভীন আর থেমে থাকেননি। একে একে খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই, করিম সাঁইসহ অসংখ্য গুরুর কাছে তালিম নেন।

১৯৭৩ সালের পর থেকেই লালনের গান হয়ে ওঠে ফরিদা পারভীনের জীবনের মূলধারা। ঢাকায় আসার পর তাঁর কণ্ঠে রেকর্ড হয় ‘পাখি কখন জানি উড়ে যায়’, ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’সহ অসংখ্য গান। প্রায় পাঁচ দশক লালনের গান করেছেন ফরিদা পারভীন।

১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান ফরিদা পারভীন। ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ‘নিন্দার কাঁটা’ গানটির জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (নারী) হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার লাভ করেন ফরিদা পারভীন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular