ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিযুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমতে পারে ১৪ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমতে পারে ১৪ শতাংশ

বিভিন্ন দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র নানা হারে ‘পাল্টা শুল্ক’ আরোপ করায় দেশটির আমদানি ১২ শতাংশ বা প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ কমে যেতে পারে। এতে দেশটিতে প্রায় সব দেশের রপ্তানি কমবে। পাল্টা শুল্ক হারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় কিছুটা ভালো অবস্থায় থাকলেও বাংলদেশের রপ্তানি ধরে রাখা কঠিন হবে। এমনকি বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ১৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। একইভাবে এই বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানিও কমবে। এর মধ্যে চীনের ৫৮ শতাংশ, ভারতের ৪৮, ভিয়েতনামের ২৮ ও ইন্দোনেশিয়ার ২৭ শতাংশ রপ্তানি কমতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের সহযোগিতায় এ গবেষণা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও এলডিসি উত্তরণবিষয়ক এক কর্মশালায় এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন র‍্যাপিড চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। র‍্যাপিড আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার মালা।

প্রতিবেদন উপস্থানকালে এম এ রাজ্জাক বলেন, মূলত আমদানি কমাতেই বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়। তাছাড়া বাড়তি শুল্ক আরোপকারী দেশে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোগের চাহিদাও কমে যায়। এসব মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের ওপর নানান হারে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপ করার ফলে দেশটির আমদানি প্রায় ১২ শতাংশ কমে যেতে পারে। এতে দেশটিতে রপ্তানি করা প্রায় সব দেশের রপ্তানি কমবে। পাল্টা শুল্কের ক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশগুলোর থেকে বাংলাদেশ কিছুটা ভালো অবস্থায় আছে। কিন্তু এ অবস্থায় রপ্তানি বাড়ানো কঠিন। এমনকি পাল্টা শুল্ক আরোপের পরবর্তী এক বছরে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের কারণে পোশাক রপ্তানিতে কোন দেশের কী প্রভাব পরতে পারে সে বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদন। এক্ষেত্রে দেশটিতে ভারতের পোশাক রপ্তানি কমতে পারে ৮২ শতাংশ। চীনের ক্ষেত্রে এটি ৪৯ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার পোশাক রপ্তানি কমতে পারে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
পাল্টা শুল্ক হারে তুলানামূলক ভালো অবস্থায় থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা দিয়ে এম এ রাজ্জাক বলেন, সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের পক্ষে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশি পণ্যে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কের একটি অংশ শেয়ার করার কথা বলছে ক্রেতারা। অর্ধেকও যদি শেয়ার করতে হয় তাও সম্ভব নয়। কারণ বর্তমানে ৪ থেকে ৫ শতাংশ লাভেই অনেক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি করে থাকে।

বিভিন্ন এইচএস কোডে থাকা পণ্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এত উচ্চ শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়ানো কষ্টসাধ্য। যেমন, একটি এইচএস কোডে ট্রাউজার ও সিনথেটিক পণ্য রপ্তানি হতো ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ শুল্কে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক যুক্ত হওয়া এসব পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ। ওই এইচএস কোডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয় প্রায় ২৫ কোটি ৮০ ডলারের পণ্য।
তিনি বলেন, ভারতের পণ্যে পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ হলে রপ্তানি হিস্যায় বেশ পরিবর্তন আসবে। তখন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পোশাক রপ্তানি কমতে পারে ১৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সেক্ষেত্রে চীন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম রপ্তানি কমতে পারে যথাক্রমে ৫০.৫৪, ১৭.৪৬ এবং ১২.৯১ শতাংশ হারে। শুধু তাই নয়, প্রায় সব দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপ করার ফলে সবাই ইউরোপীয় ইউনিয়নে পণ্য বিক্রি করতে চাইবে। তাই ওই বাজারের পণ্যের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা বলেও র‍্যাপিডের গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular