ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়পুলিশের বাধায় ভেস্তে গেল শরৎ উৎসব

পুলিশের বাধায় ভেস্তে গেল শরৎ উৎসব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ বকুলতলার ভেন্যুর অনুমতি বাতিল করায় ভেস্তে গেছে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর ‘শরৎ উৎসব’। এমনকি পরে অনুষ্ঠানটি গেণ্ডারিয়ার কচি-কাঁচার মেলার মাঠে করার চেষ্টা করলে তাতেও বাধা দেয় পুলিশ। ফলে অনুষ্ঠানটি আর হয়ে ওঠেনি।

দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে শরৎ উৎসবটি ঢাবির বকুলতলায় আয়োজন করে আসছিল এই শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বকুলতলা ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ২৬ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। অনুষদ কর্তৃপক্ষ লিখিত অনুমতিপত্রও দিয়েছিল। আয়োজনটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই জানানো হয়, অনুষ্ঠানটি বকুলতলায় আয়োজন করা যাবে না।

মূলত এই বাধা-বিতর্কের শুরু বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টার থেকে। যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মানজার চৌধুরীর স্যাটায়ার ধরনের ছবি রয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে– ‘কালচারাল ফ্যাসিস্ট, পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ করো। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে আওয়ামী পুনর্বাসন রুখে দাও।’

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম চঞ্চল সার্বিক বিষয়টি নিয়ে বলেন, অনেকের কাছ থেকে আপত্তি এসেছে এই আয়োজন নিয়ে। ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক, সাংবাদিক ও শিল্পীগোষ্ঠী’ সংগঠন তাদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেয়। যেখানে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে কয়েকজনকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হয়। যেহেতু ঝামেলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তাই আমরা অনুষ্ঠানটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই। শনিবার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকমণ্ডলী এবং সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীকে নিয়ে সভা ডাকা হয়েছে।

এদিকে অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ার পর সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজনটি স্থানান্তর করে গেণ্ডারিয়ার কচি-কাঁচার মেলার মাঠে নেওয়ার চেষ্টা করে। সকাল থেকেই সেখানে প্রস্তুতি চলছিল। তবে রাত ৩টার দিকে গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদককে জানান, এখানে অনুষ্ঠান করা যাবে না। সকালে মাঠে চেয়ার বিছানোর এক পর্যায়ে পুলিশ গিয়ে চেয়ার উঠিয়ে দেয়।
তবে শেষ পর্যন্ত একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ আয়োজন করতে সক্ষম হয় সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। সেখানে প্রতিবাদস্বরূপ জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিশুদের চিত্রাঙ্কন এবং সদ্যপ্রয়াত সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে মানজার চৌধুরী বলেন, আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান স্থগিত করে দেওয়া চরম অবিচার। এ রকম বাধা চলতে থাকলে তা কতদিন অব্যাহত রাখা যাবে– এখন সেই প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশীদ সমকালকে বলেন, আমরা অনুষ্ঠান করতে বাধা দিয়েছি বা চাপ প্রয়োগ করেছি, এমন নয়। যেখানে তারা অনুষ্ঠান করতে চাইছিলেন, সেই মাঠ কর্তৃপক্ষেরই অনুমতি ছিল না। আবার পুলিশকেও এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular