রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের প্রোজেকশন মিটিংয়ে (পরিচিতি সভা) বিতরণের উদ্দেশ্যে আনা পাঁচ বস্তা খাবার ফিরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হল ও খালেদা জিয়া হলে পরিচিতি সভায় বিতরণের জন্য এসব খাবার আনা হয়েছিল।
এর আগে হলের সভায় খাবার বিতরণ করা আচরণবিধি লঙ্ঘন দাবি করে নির্বাচন কমিশনে গত মঙ্গলবার ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল।
প্রত্যক্ষদর্শী, নির্বাচন কমিশন ও ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল খালেদা জিয়া ও মন্নুজান হলে সভার আয়োজন করে। তারা খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থীদের বসার জন্য বাইরে থেকে চেয়ার ভাড়া করে। তবে হল প্রশাসন তাদের হলের ভেতরের চেয়ার-টেবিল দিয়েই কার্যক্রম চালাতে বলে। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার (স্যান্ডউইচ, চকলেট, সস) আনে প্যানেলটি। এ সময় হল ফটকে উপস্থিত হয়ে তাদের খাবার প্রবেশে বাধা দেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দসহ অন্যরা। পরে সেখান থেকে ৫ বস্তায় আনা প্রায় ২০০ প্যাকেট খাবার ফেরত পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদ ফয়সাল বলেন, আচরণবিধিতে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা বলা নেই। তার মানে সক্ষমতার আলোকে সর্বোচ্চ খরচ করার সুযোগ রয়েছে।
একজন নির্বাচন কমিশনার আমাদের প্রার্থীকে প্রশ্ন করেছেন, ‘তোমার টাকার উৎস কী?’ আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনার স্যার এমন প্রশ্ন করার এখতিয়ার রাখেন না। আর নাস্তা বিতরণ তো শুধু আমরা না অনেক প্রার্থীই করেছেন। তাদের বেলায় নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল বলেন, তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। হাতেনাতে ধরার পর আমরা তাদের সতর্ক করেছি। আমরা কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত না যে শাস্তি দেব। তবে আমাদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে খাবারগুলো বাজেয়াপ্ত করেছি।



