ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিদেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি’ সাময়িক বন্ধের শঙ্কা!

দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি’ সাময়িক বন্ধের শঙ্কা!

নিউজ ডেস্ত : হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তিনটি ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চালানের কারণে দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি কাঁচামালের অভাবে সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি বিকল্প রুটে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল দেশে আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, পরিশোধিত তেলের সরবরাহ যথাযথভাবে নিশ্চিত থাকায় তেলের সংকটের কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নেই।

দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধ করে, যেখান থেকে বছরে মেলে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল।

তবে ইরান যুদ্ধের ধাক্কা এসে পড়েছে রাষ্ট্রীয় এই তেল পরিশোধনাগারে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি পার হয়ে কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ দেশে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ওই কৌশলগত জলপথে তিনটি চালান আটকা পড়ায় কাঁচামাল সংকটে পড়েছে ইস্টার্ন রিফাইনারি। মার্চের শেষে শোধনাগারের মজুত মাত্র ৩০ হাজার মেট্রিক টনে নেমে এসেছে, যা দিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় এক সপ্তাহের বেশি সচল রাখা সম্ভব নয়।

জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মুনীর হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির কাঁচামালে ১০-১২ দিনের একটি গ্যাপ তৈরি হবে।

মুনীর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘জাহাজ আসার পর গভীর সমুদ্র থেকে খালাস কার্যক্রম শেষে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছাতে ১০-১২ দিন সময় লাগবে। এটি আসছে একই উৎস থেকে, কিন্তু ভিন্ন বন্দর ব্যবহার করে। তাই কিছুটা বাড়তি পেমেন্ট দিতে হবে। তবে আমরা চেষ্টা করছি; শিপটি পেলে আর কোনো সমস্যা হবে না।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও সাময়িকভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তবুও দেশের তেলের সংকট এড়িয়ে চলা সম্ভব। এজন্য ডিজেল, অকটেনের মতো পরিশোধিত তেলের আমদানি নিশ্চিত রাখতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি মোট চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ সরবরাহ করে। সুতরাং এটি বড় কোনো কিছু নয়। তবে এই অবস্থায় ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে যতটুকু তেল পাওয়া যায়, তাও গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা হলো, শুধু একমাত্র ইস্টার্ন রিফাইনারির ওপর ভরসা রাখা ঠিক নয়। পরিশোধিত তেলের উৎস বহুমুখী করতে হবে এবং বিভিন্ন সোর্স থেকে তেল আনার পরিকল্পনা করতে হবে।’

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, সংকট মোকাবেলায় কার্যকরভাবে সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করা অপরিহার্য।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular