ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeবিনোদনসারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তি পাচ্ছে ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’

সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তি পাচ্ছে ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’

বিনোদন ডেস্ক: হলিউডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্টার ওয়ারস’–এর ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। পর্দায় আসছে এই সিরিজের নতুন সিনেমা ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’। আগামী ২২ মে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই চলচ্চিত্রটি। একই দিনে বাংলাদেশের দর্শকরাও সিনেমাটি উপভোগের সুযোগ পাবেন; আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই এটি দেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত হবে।

 

ডিজনির ‘স্টার ওয়ারস’ ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’-এর ধারাবাহিকতায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জন ফাভরো। তারকাবহুল এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন পেড্রো প্যাসকাল, জেরেমি অ্যালেন হোয়াইট, সিগর্নি উইভারসহ আরও অনেকে।

সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে ডিন জারিন (ম্যান্ডালোরিয়ান) এবং তার ছোট সঙ্গী গ্রোগুকে ঘিরে। এক নতুন মিশনে বেরিয়ে পড়ে তারা, যেখানে প্রতিটি পদে অপেক্ষা করছে অজানা বিপদ ও চ্যালেঞ্জ। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

গল্পের প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে নিউ রিপাবলিকের এক অস্থিতিশীল সময়ে। সাম্রাজ্য পতনের পরও গ্যালাক্সির বিভিন্ন অঞ্চলে ইম্পেরিয়াল বাহিনীর অবশিষ্ট অংশ সক্রিয় থাকে। অন্যদিকে ডিন জারিন এখন একজন ভাড়াটে যোদ্ধা এবং একই সঙ্গে গ্রোগুর অভিভাবক ও শিক্ষক।

এক পর্যায়ে নিউ রিপাবলিকের একজন কর্মকর্তা ম্যান্ডালোরিয়ানের সাহায্য চান, কারণ হাট কার্টেল ও কিছু ইম্পেরিয়াল যুদ্ধপ্রধান মিলে একটি গোপন ও বিপজ্জনক জোট গড়ে তুলছে। এই ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাব্বা দ্য হাটের পুত্র রোট্টা, যার অপহরণকে ঘিরে গ্যালাক্সিতে নতুন সংঘাতের সূচনা হয়।

ম্যান্ডো ও গ্রোগুকে রোট্টাকে উদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রথমে এটি একটি সাধারণ মিশন মনে হলেও পরবর্তীতে তারা বুঝতে পারে, এর পেছনে আরও বড় ও ভয়াবহ পরিকল্পনা লুকিয়ে আছে। কিছু ইম্পেরিয়াল বিজ্ঞানী গ্রোগুর বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে পুনরায় পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে, ফলে গ্রোগু আবারও বিপদের মুখে পড়ে।

এই সিনেমায় গ্রোগুর চরিত্রকে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সে তার ‘ফোর্স’ ক্ষমতা ব্যবহার করে শত্রুদের প্রতিহত করে, জীবন রক্ষা করে এবং এক পর্যায়ে ম্যান্ডালোরিয়ানকেও বাঁচায়। তবে সিনেমার সবচেয়ে আবেগঘন দিক হলো ম্যান্ডো ও গ্রোগুর পিতা-পুত্রের মতো সম্পর্ক।

চূড়ান্ত অংশে দেখা যায়, ইম্পেরিয়াল বাহিনীর অবশিষ্ট নেতৃত্ব একটি নতুন সেনাবাহিনী গঠনের চেষ্টা করছে, যেখানে ফোর্স-সংবেদনশীল ক্লোন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এই ভয়াবহ পরিকল্পনা প্রতিরোধে শুরু হয় বিশাল যুদ্ধ। গ্রোগু তার ক্ষমতা ব্যবহার করে পরীক্ষাগার ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শেষাংশে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, স্টার ওয়ারস মহাবিশ্বে আরও বৃহৎ সংঘাত অপেক্ষা করছে, যা ভবিষ্যতের সিনেমা ও সিরিজগুলোর জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ট্রেলার প্রকাশের পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র, তবে আগ্রহের মাত্রা ছিল অত্যন্ত উচ্চ। ভিজ্যুয়াল এফেক্ট, আইম্যাক্স স্কেল এবং ম্যান্ডো-গ্রোগুর আবেগঘন সম্পর্ক দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে। গ্রোগুর নতুন ক্ষমতা ও অ্যাকশন দৃশ্য নস্টালজিয়ার অনুভূতিও জাগিয়ে তুলেছে।

ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ট্রেলার নিয়ে আলোচনা ও রিঅ্যাকশন ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। কেউ কেউ এটিকে নস্টালজিক ও বিনোদনমূলক বলে মন্তব্য করেছেন, আবার অনেকে মনে করেছেন এটি পরিচিত ফর্মুলার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি নিরাপদ উপস্থাপনা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular