ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeরাজনীতিস্পেনের স্বশাসিত সেউতায় ৬০ হাজার অভিবাসীর ঢল, নিহত ৫৭

স্পেনের স্বশাসিত সেউতায় ৬০ হাজার অভিবাসীর ঢল, নিহত ৫৭

নিউজ ডেস্ক : মরক্কো থেকে স্পেনের স্বশাসিত ছিটমহল সেউতায় (Ceuta) নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলে ভয়াবহ মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁদের অনেকে সীমান্তের বেড়া অতিক্রম করেছেন, আবার অনেকে বিপজ্জনকভাবে সাগর সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এ সময় অন্তত ৫৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

সেউতায় বিপুলসংখ্যক মানুষের এই প্রবেশকে শহরটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিবাসী সংকটগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের প্রবেশে শহরটির স্বাভাবিক জনসংখ্যার ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জায়গার সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক অভিবাসীকে রাস্তায় রাত কাটাতে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন সরকার অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে।

এই গণপ্রবেশের পেছনে সাম্প্রতিক একটি স্প্যানিশ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। রায়ে সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশকারী ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। স্পেনের সরকার বলছে, মানবপাচারকারী চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই রায়ের অপব্যাখ্যা ছড়িয়ে মানুষকে সেউতায় আসতে উৎসাহিত করেছে। তবে স্থানীয় অভিবাসনকর্মীদের কেউ কেউ মনে করছেন, গ্রীষ্মকালে এ ধরনের প্রবেশের প্রবণতা নতুন নয় এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

সেউতা উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত হলেও স্পেনের অংশ। শহরটির ভৌগোলিক অবস্থান আফ্রিকা ও ইউরোপের মধ্যকার অভিবাসনপথে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। স্পেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই সেউতা ও মেলিয়ায় স্থলপথে অনিয়মিত প্রবেশের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।

এদিকে সংকটের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক অভিবাসী মরক্কোয় ফিরে যেতে শুরু করেছেন। স্পেনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জন ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন। ফলে একদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও অভিবাসীদের নিরাপত্তা, আশ্রয়, মানবিক সহায়তা ও আইনি অধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ঘটনাটি ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়িয়েছে। ইতালি স্পেনের সঙ্গে আকাশ ও সমুদ্রপথে সাময়িক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। তবে ইউরোপীয় পর্যায়ে সেউতার বিশেষ অবস্থান এবং শেনজেন ব্যবস্থার সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে আলাদা আইনি বাস্তবতা রয়েছে।-

সেউতার এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, ইউরোপের সীমান্তে অভিবাসন শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানবিক সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন, মানবপাচার, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং ইউরোপের অভিবাসন নীতির জটিল সমীকরণ। ৫৭ জনের প্রাণহানি এই সংকটের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হয়ে উঠেছে। স্পেন ও মরক্কোর সামনে এখন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপদ ও মানবিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular