ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeতথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানডারউইনের ১৫০ বছরের পুরোনো একটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত

ডারউইনের ১৫০ বছরের পুরোনো একটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত

বিজ্ঞান ডেস্ক : নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় একটি সপুষ্পক উদ্ভিদকে নতুন মাংসাশী প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্যাক্সিফ্রাগা ক্যানডেলাব্রাম নামের উদ্ভিদটি সহজে পোকামাকড় আকর্ষণ করতে পারে। এগুলো নিজেদের ফাঁদে আটকে রেখে হজম করতে পারে। এরপর পোকা থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করতে পারে। ফলে বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের ১৫০ বছরের পুরোনো একটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হলো।

অনেক উদ্ভিদ শিকার ধরার মতো মাংসাশী বৈশিষ্ট্য দেখায়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মাংসাশী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।

এসব উদ্ভিদের শিকার আকর্ষণ করা এবং আটকে রাখার ক্ষমতা থাকতে হয়। একই সঙ্গে শিকার হজম করে পুষ্টি শোষণ করার সক্ষমতাও থাকতে হয়।

১৮৭৫ সালে চার্লস ডারউইন স্যাক্সিফ্রাগা গণের কিছু প্রজাতিকে মাংসাশী বলে ধারণা করেছিলেন। এগুলো সাধারণত আলপাইন বা পাহাড়ি পরিবেশে জন্মানো সপুষ্পক উদ্ভিদ। আঠাল গ্রন্থিযুক্ত রোমের কারণে এরা সহজে পোকামাকড় ধরতে পারে বলে তিনি মনে করতেন। তবে এত দিন এই ধারণার স্বপক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ ছিল না।

গবেষক হ্যাং সান ও তার সহকর্মীরা স্যাক্সিফ্রাগা ক্যানডেলাব্রাম উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করেন। এটি চীনের কিংহাই-তিব্বত মালভূমি এবং হেংডুয়ান পর্বতমালার পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মে। মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে গবেষকরা ৪৫টি উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ৪৩টির গ্রন্থিযুক্ত রোমে বিভিন্ন পোকামাকড় আটকে থাকতে দেখা যায়। পরিণত উদ্ভিদগুলোয় গড়ে ৭১টি আটকে পড়া পোকামাকড় পাওয়া যায়। এরপর গবেষকরা হজম ও পুষ্টি শোষণের প্রমাণ খুঁজতে শুরু করেন।

মাংসাশী উদ্ভিদে সাধারণত ফসফাটেজ নামের একটি পরিপাককারী এনজাইম থাকে। ফ্লুরোসেন্স ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে এই উদ্ভিদেও ফসফাটেজের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এতে বোঝা যায় উদ্ভিদটি তার শিকার হজম করতে সক্ষম। এরপর পুষ্টি শোষণের ক্ষমতা যাচাই করতে উদ্ভিদটিকে বিশেষ নাইট্রোজেন যুক্ত ড্রসোফিলা মাছি খেতে দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষণে দেখা যায় উদ্ভিদটিতে নাইট্রোজেনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ অ-মাংসাশী উদ্ভিদে এমনটি দেখা যায়নি। এটি উদ্ভিদটির মাংসাশী আচরণের শক্ত প্রমাণ দেয়।

সবশেষে জিনগত বিশ্লেষণে অন্যান্য স্বাধীন মাংসাশী উদ্ভিদের সঙ্গে এর মিল পাওয়া যায়। শিকার আকর্ষণ, হজম এবং পুষ্টি শোষণের সঙ্গে যুক্ত জিনগুলো এতে সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ফলাফল ডারউইনের সেই পুরোনো ধারণাকে শক্তভাবে সমর্থন করে।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular