বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে সিফাত আবদুল্লাহ নামের এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার পোস্টে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় মন্তব্য করা হয়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
গ্রেফতারের পর পুলিশ দাবি করে, সিফাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের গোপন কার্যক্রমে যুক্ত থাকা। যদিও এনসিপির নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, তিনি তাদের দলের সঙ্গে যুক্ত এবং ইনকিলাব মঞ্চের একজন সক্রিয় কর্মী।
এদিকে, সিফাতের গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পুরোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়টি নিয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনাকারী ছিলেন, কিন্তু শুরুতে ফেসবুক পোস্টের কারণে গ্রেফতার হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
এ ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা চলছে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। মানবাধিকারকর্মী এবং আইন বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষা এবং মানহানিকর বক্তব্যের ব্যবহার নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অশালীন ভাষার ব্যবহার এবং সরকারের বিরুদ্ধে কটূক্তি করার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা চলছে। আইনজীবীরা বলছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে অন্যের সম্মানহানি করা নয়।
এখন প্রশ্ন হলো, সিফাত আবদুল্লাহর গ্রেফতার কি সত্যিই মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত, নাকি এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ? এই বিষয়টি নিয়ে সমাজে বিতর্ক চলমান।




