আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটির কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
বুধবারও (৯ সেপ্টেম্বর) পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই; বরং নতুন করে ফ্লাইট বিলম্ব ও সিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থা ‘ন্যাটস’-এর কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায় ১ হাজার ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।
ন্যাটসের প্রধান নির্বাহী মার্টিন রলফ এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কী কারণে এই সংকট তৈরি হলো তা জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সমস্যা সমাধান করতে ‘প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময়’ লেগেছে।
যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী হেইডি অ্যালেক্সান্ডার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও জবাবদিহিতার জন্য বুধবার ন্যাটস প্রধান মার্টিন রলফকে তলব করেছেন। তবে পার্লামেন্টে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের সাইবার হামলার কারণে এই বিভ্রাট ঘটেনি।
যুক্তরাজ্যের আকাশসীমা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় কেবল দেশের অভ্যন্তরেই নয়, এর প্রভাব পড়েছে আয়ারল্যান্ডসহ ইউরোপের অন্যান্য বিমানবন্দরেও। ফ্লাইট ছাড়তে না পারায় বাইরের অনেক দেশের বিমানও যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি। ইজিজেট তাদের প্রায় ২০০টি এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। হিথরো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।
ন্যাটসের এই ধরনের অদক্ষতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালেও কারিগরি ত্রুটির কারণে আগস্টের ছুটির দিনে প্রায় ৭ লাখ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছিলেন। বারবার এই ধরনের বিভ্রাটের কারণে রায়ানএয়ার ও উইজ এয়ারের মতো বিমান সংস্থাগুলো ন্যাটস-এর পুরো ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়েছে।
যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ন্যাটসের সিস্টেমের কারিগরি ত্রুটি ঠিক করা হলেও তৈরি হওয়া বিশাল জট সামলে ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বেশ কিছুদিন সময় লেগে যাবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বিবিসি




