ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে ভোগান্তি দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে ভোগান্তি দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ

অর্থনীতি ডেস্ক: ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে মানুষের ভোগান্তি কমছে না। জুলাই মাসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য করা ৮৬ হাজার ৯৫৩টি আবেদন এখনো অনিষ্পন্ন।

এই সময়ে নিষ্পন্ন হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৭৭৩টি আবেদন। পাশাপাশি নতুন আবেদন ও আগের মামলার চাপের কারণে অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণের পুরোনো ৯ হাজার ২৫৫টি মামলাও ঝুলে আছে।

গত ২৩ আগস্ট মন্ত্রপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কমিশনার সমন্বয় সভায় মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন কাজে ধীরগতি ও অনিষ্পন্ন ভূমি সংক্রান্ত আবেদন-মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণে মানুষের হয়রানি বন্ধ করে সহজ উপায়ে ক্ষতিপূরণের আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি।

আগস্ট মাসের কমিশনার সমন্বয় সভার কার্যবিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মাঠ প্রশাসনে ভূমি অধিগ্রহণের অনিষ্পন্ন অভিযোগ ও মামলা দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জনগণের হয়রানি বন্ধে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বিভাগীয় কমিশনারদের বলা হয়েছে।

কার্যবিবরণী অনুযায়ী জুনের তুলনায় জুলাইয়ে ভূমি অধিগ্রহণের মামলা ২২৪টি এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য নতুন আবেদন ১৯৪টি বেড়েছে। বিপরীতে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের সংখ্যা কমেছে ৮৩৩টি। কাজের ধীর গতির জন্য অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা এক মাসে ১ হাজার ২৭টি বেড়ে ৮৬ হাজার ৯৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে।

তবে জুলাই মাসে এককভাবে ক্ষতিপূরণের ৬ হাজার ৭৭৩টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। জুনের তুলনায় এ সংখ্যা ৩ হাজার ১৫৭টি বেশি। নিষ্পত্তি হওয়া এসব আবেদনে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ৭৪৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

মাঠ প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে ভূমি অধিগ্রহণ বেশি হয় এমন জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) পদ এবং একাধিক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনারদের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকদের উপস্থিতিতে অধিগ্রহণ করা স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

শুধু ক্ষতিপূরণের আবেদন নয়, পুরোনো ভূমি অধিগ্রহণের মামলাও মাঠ প্রশাসনের জন্য বড় চাপ হয়ে আছে। তিনটি আইনের অধীনে মোট ৯ হাজার ২৫৫টি এলএ মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালের আইনের অধীনে ৫ হাজার ৪৪৮টি, ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশের অধীনে ২ হাজার ৪৮৭টি এবং ২০১৭ সালের আইনের অধীনে ১ হাজার ৩২০টি মামলা রয়েছে।

এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি নিষ্পত্তি হওয়া মামলার নামজারি ও রেকর্ড হালনাগাদ করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে করা আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গতি কমেছে। জুনে নিষ্পত্তির হার ছিল ৯ দশমিক ১০ শতাংশ, জুলাইয়ে তা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাই শেষে তিন মাসের বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫৬টি।

মাঠ প্রশাসনের জবাবদিহির ক্ষেত্রেও ঘাটতির বিষয়টি সভায় উঠে এসেছে। জুলাইয়ে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা বা গ্রাইভেন্স রিড্রেস সিস্টেমে (জিআরএস) ৪২৩টি অভিযোগ নির্ধারিত সময় পার হওয়া সত্ত্বেও নিষ্পত্তি হয়নি। ওই মাসে ৬৫৮টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হলেও মোট নিষ্পত্তির হার ছিল ৬৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকা সর্বোচ্চ ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং খুলনা সর্বনিম্ন ২৭ দশমিক ৪০ শতাংশ নিষ্পত্তির হার অর্জন করেছে।

মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমে নজরদারি বাড়াতে কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভূমি অফিসে আগামী তিন মাসের মধ্যে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে হাজিরার তথ্য পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনের সব মাসিক প্রতিবেদন প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় পাঠানো এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের তথ্য বাতায়ন নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে কমিশনার সমন্বয় সভায় মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন কাজে ধীরগতি ও অনিষ্পন্ন আবেদন-মামলা দ্রুত কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণে মানুষের হয়রানি বন্ধ করে জটিলতামুক্ত ক্ষতিপূরণের আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনাই সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে এসেছে।

অনিষ্পন্ন মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা খবরের কাগজকে বলেন, মাঠ প্রশাসনকে জনভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত অনিষ্পন্ন মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের যাতে কোনো ব্যত্যয় না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি নরসিংদী জেলার ভূমি অধিগ্রহণ এবং এর অর্থ বিতরণ নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে যাতে তারা ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণের মতো বিষয়গুলো মনিটরিং এবং দ্রুত নিষ্পত্তি করেন, সে বিষয়ে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ভূমি অফিসের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়েও বিভাগীয় কমিশনারদের সভায় আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার বলেন, এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছে।

পাশাপাশি সারা দেশের ভূমি উন্নয়ন কর, নামজারিসহ অন্য সব বিষয়ও অনলাইনে (ডিজিটাল পদ্ধতি) সম্পাদন করা গেলে সাধারণ মানুষের দুর্নীতি নিয়ে যেসব অভিযোগ আছে, সেগুলো আর থাকবে না। কারণ অনলাইনে পুরো সিস্টেম নিয়ে আসা গেলে তখন দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular