নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানাধীন জালালাবাদ কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লাওস, পাকিস্তান, চীন, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান এবং তাদের কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্তে নামে। অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, বাংলাদেশে অবস্থানের উদ্দেশ্য, ভিসার ধরন এবং তাদের সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যাচাই-বাছাই শুরু হয়।
অভিযানে বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। একাধিক প্রতিবেদনে ডিভাইসের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ১৩১টি মোবাইল ফোন ও ৫৬টি ল্যাপটপ—মোট ১৮৭টি ডিভাইস জব্দের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কথা জানিয়েছে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা ডিভাইসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। এসব ডিভাইসে অনলাইন কার্যক্রম, যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য রয়েছে কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে। এ জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের অনলাইন প্রতারণা, অনলাইন জুয়া কিংবা কথিত অবৈধ ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহের বিষয়টিও তদন্তে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত শেষ হয়নি। পুলিশও জানিয়েছে, জব্দ করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
এদিকে ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ভবনটি কী উদ্দেশ্যে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে আটক ব্যক্তিরা কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
পাসপোর্ট না থাকার বিষয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। আপনার দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কারও কাছে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি এবং পাসপোর্ট একজনের কাছে রাখা হয়েছিল। তবে অন্যান্য সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে পুলিশকে উদ্ধৃত করে আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, পাসপোর্ট ও ভিসার বৈধতা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। তাই তদন্তের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের আগে ‘কারও কাছে পাসপোর্ট ছিল না’—এটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা সতর্কতার সঙ্গে এড়িয়ে চলাই যুক্তিযুক্ত।
পুলিশের তদন্তে এখন মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে—আটক ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় ও বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধতা, তারা কোন উদ্দেশ্যে ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন এবং জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের তথ্যের সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে কি না। তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।-
চট্টগ্রামের এই অভিযান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে পরিচালিত কথিত অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ অনলাইন কার্যক্রম নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজরদারি বাড়িয়েছে। তবে খুলশীর ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।



