অপরাধ ডেস্ক: ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক মেজর মোজাফফর হোসেনকে জেরা করতেই পুরো থ্রিলার সিনেমার মতো সত্য বের হয়ে এল।
এই পুরো অপারেশনের অন্যতম ফ্রন্টলাইনার এবং যে মানুষটা জিয়াউর রহমানের বুকে ট্রিগার টিপেছিলেন তিনি আর কেউ নন স্বয়ং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান, বীর বিক্রম!
তখন চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের সাথে ঢাকার সেনা সদরের চরম বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে আসেন। মঞ্জুর এবং তাঁর অনুসারী একদল ক্ষুব্ধ সেনা কর্মকর্তা, যার মধ্যে মতিউর রহমান অন্যতম সিদ্ধান্ত নেন, এটাই সুযোগ, আজ রাতেই অপারেশন শেষ করতে হবে।
ভোর ৪ টার দিকে চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তিনটি দল সার্কিট হাউজের দিকে রওনা দেয়। এই কিলার স্কোয়াডের ফ্রন্টলাইনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন খোদ কর্নেল মতিউর রহমান ও ক্যাপ্টেন সাঈদ। তারা সার্কিট হাউজে পৌঁছেই এলোপাতাড়ি গুলি আর গ্রেনেড চার্জ শুরু করে।
গুলির আওয়াজে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় আসেন। ঠিক তখনই তাঁর মুখোমুখি হন কর্নেল মতিউর রহমান।
এত বছর পর ২০২৬ সালের জুলাইতে এই মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তদন্ত সংস্থার কাছে আসল সত্যিটা ফাঁস করেন।
মোজাফফরের জবানবন্দী অনুযায়ী, বারান্দায় জিয়াকে দেখামাত্রই কর্নেল মতিউর রহমান খুব কাছ থেকে তাঁর হাতের সাব-মেশিনগান দিয়ে ব্রাশফায়ার করেন! জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
হত্যাকাণ্ড সফল হলেও ঢাকায় ক্ষমতা দখলের প্ল্যান ফ্লপ খায়। সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ পুরো সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। অবস্থা বেগতিক দেখে কর্নেল মতিউরসহ বাকিরা পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
জিয়া হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার মিশন সাকসেসফুল করে পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে পালানোর সময় ১৯৮১ সালের ১ জুন সরকারি অনুগত সৈন্যদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মতিউর গুরুতরভাবে নিহত হন।
পুরো বিষয়টি এখন আদালতে তদন্তাধীন, ৪৫ বছর পর এই পুরোনো মামলার ডায়েরির পাতা খুলতে শুরু করেছে।



