লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় একটি খাল সংস্কার প্রকল্পের কাজ শেষ না হলেও সরকারি নথিতে তা শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে ৩০ লাখ ৩ হাজার ৫৩৬ টাকার বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে খালটির বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিনের পলি-ময়লা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, খনন, বেড ব্লক ও টিবিএম নির্মাণের কাজও পুরোপুরি হয়নি।
এলজিইডির একটি প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার ‘পি টু ডি’ ও ‘পি টু ডি ১/১’ খালের সংস্কার এবং বেড ব্লক ও টিবিএম অবকাঠামো নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আম্মার ট্রেডার্স। অভিযোগ উঠেছে, কাজ অসম্পূর্ণ থাকার পরও প্রকল্পটির চূড়ান্ত বিল অনুমোদন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ‘সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন (আইপিসিপি)’ প্রকল্পের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় এসব কাজ নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় খাল সংস্কারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে বেড ব্লক ও টিবিএম নির্মাণের কথা ছিল।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল লতিফ হাজীবাড়ি থেকে মিরশাহ আলম চেয়ারম্যানবাড়ি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশে কোনো খননকাজের চিহ্ন দেখা যায়নি। এরপর চেয়ারম্যানবাড়ির উত্তর থেকে সুলতান ভূঁইয়া বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে খালের তলদেশ খনন না করে শুধু ভাসমান ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
চৌধুরীবাড়ি থেকে কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার অংশের দুই মুখে সামান্য পরিষ্কার করা হলেও মাঝের বড় অংশে কাজ হয়নি বলে সরেজমিনে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খালটি সংস্কার না হওয়ায় বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে আগের মতোই সমস্যা হচ্ছে।
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, খালের নির্দিষ্ট অংশে নয়টি বেড ব্লক ও ১৮টি টিবিএম নির্মাণের কথা ছিল। তবে সরেজমিনে এসবের কোনোটি দেখা যায়নি। খালের গভীরতা ও নির্ধারিত লেভেল পরিমাপের জন্য স্থায়ী কোনো চিহ্নও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ‘খালে সামান্য মাটিও কাটা হয়নি। বর্ষায় পানি নামতে না পেরে আগের মতোই জলাবদ্ধতায় ভুগতে হচ্ছে। অথচ শুনছি কাজের সব টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।’
কাজের চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘নথি না দেখে বলা সম্ভব নয়। পরে আসেন, তখন বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’
এলজিইডি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল চৌধুরী বলেন, চূড়ান্ত বিল প্রস্তুত করা হলেও কিছু টাকা আটকে রাখা হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




