নিউজ ডেস্ক: সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে সেগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে চলাচলের অনুমত দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে।
৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ইতিমধ্যেই এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নতুন এই বিধিমালায় সরকারের নেওয়া মূল সিদ্ধান্ত ও নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:
নিবন্ধন বাধ্যতামূলক: লাইসেন্স বা নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
অননুমোদিত এবং অনিবন্ধিত রিকশাগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
জোনভিত্তিক চলাচল ও ৮টি ভিন্ন রং: রাজধানী ঢাকাকে মোট ৮টি অঞ্চলে (জোনে) ভাগ করা হয়েছে (উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪টি করে)।
জোনভিত্তিক চলাচলের জন্য আটটি ভিন্ন রঙ বরাদ্দ থাকবে।
এক জোনের নিবন্ধিত রিকশা অন্য জোনে বা এক সিটি করপোরেশনের রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চলতে পারবে না।
মালিকানার সীমা ও মেয়াদ: একজন ব্যক্তি তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন।
প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (লাইফটাইম) হবে ১২ বছর এবং নিবন্ধনের মেয়াদ থাকবে ৫ বছর।
নিবন্ধন ও নবায়ন ফি: ৪ জন যাত্রী বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন রিকশার জন্য নিবন্ধন ফি ১০,০০০ টাকা (বার্ষিক নবায়ন ফি ৫,০০০ টাকা) এবং ২ জন যাত্রী বহনের জন্য ফি ৮,০০০ টাকা (বার্ষিক নবায়ন ফি ৪,০০০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য ১,০০০ টাকা দিতে হবে।
কারিগরি মান ও গতিসীমা: প্রতিটি রিকশা অবশ্যই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নির্দিষ্ট নকশা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি বা সংশোধন করতে হবে।
রিকশায় ওডোমিটার বা স্পিডোমিটার থাকা বাধ্যতামূলক।
সাধারণত গতিসীমা থাকবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫-৩০ কিলোমিটার, তবে স্কুল বা বিশেষ জোনে তা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।
চার্জিং ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা: অবৈধ উপায়ে বা গ্রিডের বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যাটারি চার্জ করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
চার্জিং স্টেশনে সোলার প্যানেল বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
এছাড়া ব্যাটারি বিক্রেতাদের নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় পুরাতন ব্যাটারি ফেরত নিয়ে অনুমোদিত রিসাইক্লিং কারখানায় পাঠাতে হবে।
আপীল করার সুযোগ: আবেদন নামঞ্জুর হলে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ জানানো হবে। আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যাবে, আর আপিলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
নিষেধাজ্ঞা: মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস করিডর, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সড়ক এবং ফুটপাতে ই-রিকশা চলতে পারবে না।
লেন ব্যবহার: চালককে সবসময় বাঁ লেনে চলতে হবে। চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার এবং অনিয়মিত ওভারটেকিং বা লেন বদল নিষেধ।
পার্কিং এরিয়া ও রুট: কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ মিলে জোনভিত্তিক রুট ঠিক করবে, আর এক জোনের রিকশা অন্য জোনে যেতে পারবে না। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রয়োজনমতো পার্কিং এলাকাও নির্ধারণ করা হবে।
এই বিধিমালা অমান্য করে মূল মহাসড়কে চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বা ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করলে ট্রাফিক পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।



