অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের ইস্পাত শিল্পে ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটিয়েছে। চাহিদার ঘাটতি ও দাম কমায় শিল্পটি কঠিন সময় পার করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক সরকারের পরিবর্তনের ফলে দেশের ইস্পাত খাত বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের ইস্পাত শিল্পে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম এবং আনোয়ার ইস্পাত উভয়ই এই পরিস্থিতির উপর হতাশা প্রকাশ করেছে। বিএসআরএমের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত জানান, মিল মালিকেরা তাদের উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের বেতন ও ইউটিলিটি বিল মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এছাড়া দেশের রিয়েল এস্টেট খাতেও মন্দাভাব বিরাজ করছে। ক্রমাগত উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এই খাত সংকুচিত হয়েছে, যার প্রভাব ইস্পাতের চাহিদার ওপরেও পড়েছে। তপন সেনগুপ্ত জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না, বরং সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
ইস্পাত খাতের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আনোয়ার গ্রুপের মনোয়ার হোসেন জানান, মিলগুলো তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছে না, যার ফলে তাদের পরিচালন ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। এছাড়া, ঋণপত্র মার্জিনের বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাত এবং কাঁচামাল সংকটও এই খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের ইস্পাত বাজারে বর্তমানে প্রায় ২০০টি কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০টি বড় কোম্পানি। তবে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টন হলেও চাহিদার সংকটে উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।




