নীল নৌকাটি থামাল—ভেতরে যা ছিল তা তাদের হতবাক করে দিল।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি ডেস্ক : ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। উত্তাল সমুদ্রের বুক চিরে উপকূলরক্ষী বাহিনীর টহলজাহাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে।
ক্যাপ্টেন আরিফের নেতৃত্বে সাত সদস্যের দলটি প্রতিদিনের মতোই নিয়মিত টহলে ছিল।
হঠাৎ এক নাবিক দূরের দিগন্তের দিকে আঙুল তুলে চিৎকার করে উঠল, “স্যার, ওদিকে কিছু একটা ভাসছে!”
দূর থেকে দেখতে সেটি ছিল ধাতব নীল রঙের একটি অদ্ভুত নৌকা।
আশ্চর্যের বিষয়, জাহাজের আধুনিক রাডারে তার কোনো অস্তিত্বই ধরা পড়ছিল না। যেন সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে থাকা এক রহস্যময় ছায়া।
ক্যাপ্টেন আরিফ ধীরে ধীরে নৌকার কাছে এগিয়ে গেলেন। বহুবার মাইকে ডাক দেওয়া হলো—“এটি উপকূলরক্ষী বাহিনী। ভেতরে কেউ থাকলে সাড়া দিন।”
কোনো উত্তর এলো না।
তারা দড়ি ছুড়ে নৌকাটিকে টেনে আনার চেষ্টা করল। কিন্তু অবাক করার মতো ঘটনা ঘটল। ছোট্ট নৌকাটি একচুলও নড়ল না; বরং বিশাল টহলজাহাজটিকেই ধীরে ধীরে নিজের দিকে টেনে আনতে লাগল।
দলের সদস্যদের মুখে ভয়ের ছাপ ফুটে উঠল।
“এটা কি সত্যিই নৌকা?” ফিসফিস করে বলল রাশেদ।
শেষ পর্যন্ত দুই সদস্য—ব্রেন্ডন ও জন—সাহস করে নৌকাটিতে উঠে গেল। উপরের ছোট জানালা দিয়ে ভেতরে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। চারদিকে শুধু ঘন অন্ধকার।
তারা ধীরে ধীরে ভারী ধাতব ঢাকনাটি খুলল।
নিচে সরু একটি সিঁড়ি।
টর্চের আলো ফেলে দুজন নিচে নামতে শুরু করল। ভেতরে গিয়ে তারা দেখল, পুরো কক্ষটি ফাঁকা। শুধু মাঝখানে একটি পুরোনো কন্ট্রোল প্যানেল, যার ওপর ধুলোর স্তর জমে আছে।
“কেউ নেই!” জন বিস্ময়ে বলল।
ঠিক তখনই প্রবল শব্দে ওপরের দরজাটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।
ওয়াকিটকিতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তারা স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছিল না। সিগন্যাল বারবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল।
হঠাৎ কন্ট্রোল প্যানেলের একটি সবুজ বাতি জ্বলে উঠল।
তারপর আরেকটি।
মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর কাঁপতে শুরু করল।
দেয়ালের ভেতর থেকে যান্ত্রিক গুঞ্জন শোনা গেল। মনে হচ্ছিল বহু বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা কোনো যন্ত্র আবার সচল হয়ে উঠছে।
বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা উপকূলরক্ষী সদস্যরা দেখলেন, নীল নৌকার চারপাশের পানি অদ্ভুতভাবে ঘূর্ণি তৈরি করছে। কম্পাস কাজ করা বন্ধ করে দিল। রাডারের পর্দা সম্পূর্ণ কালো হয়ে গেল।
ক্যাপ্টেন আরিফ দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিলেন।
অনেক চেষ্টা করে দরজাটি খুলে ফেলা হলো।
কিন্তু ভেতরে ঢুকে সবাই হতবাক।
ব্রেন্ডন ও জন নেই।
কন্ট্রোল প্যানেলটিও নেই।
পুরো কক্ষটি একেবারে খালি।
মনে হচ্ছিল কয়েক মিনিট আগেও সেখানে কেউ ছিল—এমন কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই।
এরপরই নীল নৌকাটি ধীরে ধীরে পানির নিচে ডুবতে শুরু করল।
কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি গভীর সমুদ্রের অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
বহু মাস ধরে তদন্ত চলল। নৌকাটির কোনো নিবন্ধন নম্বর পাওয়া গেল না। কোনো দেশের নৌবাহিনীর তালিকাতেও এমন নৌকার অস্তিত্ব নেই।
আজও সেই ঘটনার সরকারি নথিতে মাত্র একটি বাক্য লেখা রয়েছে—