সৈয়দ শাকিল আহাদ
কাল বিকালে যখন,
বৃষ্টি নেমেছে, ছাতা হাতে বেরিয়ে কেবল
ভিজলাম, অকারণ– তুমি ছাড়া।
মনের কোণায় পুরাতন
এক নাম কড়া নাড়ে,
চোখ বুঁজতেই দেখি সেই দোতালা বারান্দায়
দোলনায় দোল খাওয়া এক সন্ধ্যাতারা।
সেদিনের বৃষ্টিতে পকেটে লুকিয়ে রাখা
নীল কাগজের সেই চিরকূট দিতে চাইনি।
সেই চিরকূট আজ কাঁপে বুকের ভিতর।
তুমি তখন ঘটীহাতা ফ্রক পড়া,
দুইবেণী দোলানো একটি পুতুল।
আমি পকেটে লুকিয়ে রাখতাম
ঢাকা থেকে বয়ে আনা লজেন্স।
খুঁজতাম নানান বাহানা।
পরীক্ষার পড়া মুখস্থ হতো না কোনদিন
কিন্তূ তোমার ঐ মিষ্টি হাসির লাইনগুলো ঠোঁটস্থ ছিল।
রেল লাইনে ট্রেন দেখতে দৌঁড়ে গেলে হাঁপিয়ে যেতাম,
তবুও তাকিয়ে থাকতাম যদি একবার ফিরে চাও।
গড়িয়ে গেল সময়, শহরে বদলাল ঠিকানা।
চুলে পাক ধরল, চশমা এল চোখে।
তবু কাল রাতে স্বপ্নে আবার তুমি এলে।
সেই ঘটীহাতা নীল জামা, সেই কাচের চুড়ির শব্দ।
ঘূম ভেঙে দেখি বালিশ ভেজা, কারণ নেই,
কোনো গান নেই, তবু বুকের ভিতর বাজনা।
কখনোই ফেসবুকে তোমাকে খুুঁজিনি, কোনো নম্বরও রাখিনি,
তবুও নামটা গুগল ছাড়াই মনে পড়ে যায়।
হয়তো প্রেম ছিল না, ছিল কাঁচা ভাললাগা,
যা বয়স বোঝেনি, শূধু রঙ্গিন করে রেখেছিল।
আজ বুঝি সে ভাললাগাই ছিল প্রথম পাঠ,
ভালবাসা বানান শেখার
অ আ ক খ।
এখনো ইচ্ছে করে, দেখা হোক ষ্টেশনের ওয়েটিং রুমে।
কিছুই না বলি! শূধু একবার চোখে চোখ রাখি।
তুমি চিনতে পারবে কিনা জানিনা,
আমি ঠিকই চিনে নেব সেই দুই বেণীর ফিতা।
হঠাৎ উথলে ওঠা প্রেম আসলে ঘুমায়নি কোনোদিন।
শূধু ছোটবেলার খাতায় চুপ করে লেখা ছিল।




