গফরগাঁও(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার দত্তের বাজার ইউনিয়নের বিরই গ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মা ও মেয়ের ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশু সন্তানকে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের ধারণা। নিহত দুইজন হলো মর্জিনা বেগম (২৪), মেয়ে ময়না (৩)। এ ঘটনায় শুক্রবার পাগলা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহত নারীর স্বামী শাহীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাগলা থানাধীন দত্তের বাজার ইউনিয়নের বিরই গ্রামের শাহীন ও মর্জিনা বেগম দম্পতির ময়না নামে তিন বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। শাহীন সৌদি প্রবাসী ছিলেন। শাহীনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম গত ছয় মাস ধরে মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য শাহীন গত আড়াই মাস পূর্বে দেশে ফিরেন। এরপর স্থানীয় কবিরাজ দিয়ে স্ত্রীকে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুর একটা নাগাদ মর্জিনা বেগম বসত ঘরের দরজা বন্ধ করে রশি দিয়ে প্রথমে তার শিশু কন্যা ময়নাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। পরে একই রশিতে নিজেও আত্মহত্যা করেন। বিকেলের দিকে শাহীন বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ দেখে বেশ কিছু সময় ডাকাডাকি করে সারা না পেয়ে পাশের রুমের উপর দিয়ে এ ঘটনা দেখে ডাক চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পাগলা থানা পুলিশ সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যান। এ সময় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহীনকেও থানায় নিয়ে যায়। শাহীনের প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া বলেন,এই দম্পতির পারিবারিক কোন সমস্যার কথা শুনি নাই। তবে কয়েক মাস ধরে মর্জিনা মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে তার স্বামী প্রায়ই বলতেন।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেন,মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



