গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সকাল থেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ চাল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি চাল মাপে কম দেয়ার অভিযোগ করেছেন| এ ঘটনায় পৌর এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গৌরীপুর পৌরসভায় ভিজিএফের চাল নিতে আসা শত শত মানুষের ভিড়। অনেকের হাতে স্লিপ থাকলেও অনেক দরিদ্র লোকজন স্লিপই পাননি। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এবারের ভিজিএফ কর্মসূচিতে মোট ৪হাজার ৬২১টি কার্ডের বিপক্ষে ৪৬ হাজার ২১০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ট্যাগ অফিসার উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রতন চন্দ্র দাস এর প্রতিনিধি হিসেবে একই কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক নোবেল মিয়া দুপুর থেকে উপস্থিত ছিলেন। তবে বরাদ্দের তুলনায় অধিকসংখ্যক মানুষ চাল নিতে আসায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত হতদরিদ্রদেরকে স্লিপই দেওয়া হয়নি, রাজনৈতিক বিবেচনায় নেতাকর্মীরা তাদের কাছের লোকদেরকে ভিজিএফের স্লিপ দিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অপেক্ষমান সাধারণ মানুষ।
পৌরসভার বাড়ীওয়ালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রনি বলেন, ‘আমি কার্ড পাই নাই। ১০ দিন পূর্বে আইডি কার্ড জমা দিয়েছি। আজ সকাল থেকে বসে আছি কার্ডের আশায় কিন্তু কার্ড পাইনি। এখন আমরা ঈদ করবো কিভাবে ?
বালুয়াপাড়া মহল্লার কল্পনা বলেন, ভোটের সময় আমাদের কাছে এসে মা, চাচী ডাকতে পারে কিন্তু ভিজিএফের একটি কার্ড আমাদের দিতে পারে না।’
সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মনজিলা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গরিব মানুষের জন্য চাল আসছে, আমরা পাই নাই, কিন্তু কারা পাইছে?’
প্রতিবন্ধী মোঃ রুবেল মিয়া বলেন, আমি গত ঈদেও কার্ড পাইছি। আজকে কার্ড পাইনি, পরে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা একটি কার্ডের ব্যবস্থা করে দেয়। আমি চাই আমার মতো গরীব, অসহায় মানুষেরা যেন কার্ড পায়।’
গৌরীপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলীমেল হাকিম মুন্সী বলেন, আমরা সারাদেশে হতদরিদ্র উপজেলার তালিকায় সাত নম্বরে। পৌরসভার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র, অসহায়। তাদের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হইছে তা অপ্রতুল। তিনি পৌরসভার জন্য আরও কিছু কার্ড প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান।’
এ বিষয়ে জানতে ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রতন চন্দ্র দাস বলেন আমি আসতে পারি নাই। আমার অফিসের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলো। অনিয়মের বিষয়টি জানিনা, খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোদন মোহন দাস বলেন, ‘আমাদের বরাদ্দ যা ছিলো আমরা দিয়েছি। কার্ডের তুলনায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে গৌরীপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোদন মোহন দাস বলেন, ‘আমাদের বরাদ্দ যা ছিলো আমরা দিয়েছি। কার্ডের তুলনায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেশি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সুনন্দা সরকার প্রমা বলেন, আমরা সার্ভে করে পাইছি পৌরসভায় ৭হাজার হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে কিন্তু আমরা ৪ হাজার ৬২১টি কার্ডের চাল বরাদ্দ পাইছি। যা পাইছি তা বিতরণ করা হয়েছে| মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করবো যদি কার্ড বৃদ্ধি করা যায় তাহলে অবশিষ্ট দরিদ্র মানুষকে দেওয়া হবে|




