নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ বছরও থাকছে না ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’। গাছে পরিপক্ব হলেই আম বাজারজাত করতে পারবেন চাষিরা। চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে এবারও আম পাড়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন, নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন এবং শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় জানানো হয়, আমচাষিদের সম্মতিতেই এবার কোনো ম্যাংগো ক্যালেন্ডার করা হচ্ছে না। ফলে গাছে আম পাকলেই তা সংগ্রহ ও বাজারজাত করা যাবে।
তবে প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী অপরিপক্ব আম বাজারে আনলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সভায় আমের ওজন নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথাও জানানো হয়। পাশাপাশি আম পরিবহনে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের পরিবর্তে আন্তঃনগর বনলতা এক্সপ্রেসে একটি বিশেষ বগি সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। ডাক বিভাগকে আরও সক্রিয় করা এবং কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয় সভায়।
ম্যাংগো ক্যালেন্ডার না রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আমচাষিরা।
নাচোল উপজেলার আমচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জের সব উপজেলায় একসঙ্গে আম পাকে না। বরেন্দ্র এলাকায় যে সময় আম পাকে, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাটে তার অন্তত ১০ দিন পরে পাকে। ক্যালেন্ডার না থাকায় এবার সেই জটিলতা থাকবে না।”
শিবগঞ্জের চাষি আব্দুল মান্নান বলেন, “শিবগঞ্জের চাষিরা সাধারণত একটু দেরিতে আম ভাঙেন। এতে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। ক্যালেন্ডার থাকলে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হতো।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার জেলায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন।
এদিকে নাটোরে চলতি মৌসুমের ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, ১৫ মে থেকে গুটি আম সংগ্রহের মাধ্যমে আমের মৌসুম শুরু হবে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে গোপালভোগ, ৩০ মে থেকে রাণীপছন্দ ও ক্ষিরসাপাত, ৫ জুন থেকে লক্ষ্মণভোগ, ১৫ জুন থেকে ল্যাংড়া ও আম্রপালি, ২৫ জুন থেকে মোহনভোগ ও হাঁড়িভাঙা, ৩০ জুন থেকে ফজলি, ৫ জুলাই থেকে মল্লিকা, ১৫ জুলাই থেকে বারি-৪, ২০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১০ আগস্ট থেকে গৌরমতি আম বাজারজাত করা যাবে।
এ ছাড়া ১৭ মে থেকে মোজাফফর জাতের এবং ২৫ মে থেকে বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, “গাছ থেকে ফল সংগ্রহ, বিপণন ও পরিবহনের সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে ক্রেতাদের নিরাপদ ফল নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। কেমিক্যালমুক্ত ফল নিশ্চিতে নজরদারিও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকানিউজ/নাজ/24




