নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় ঐকমত্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সামনে রেখে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’-এ ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ভূমিকা পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার এক বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শাকিল উজ্জামান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটই তৈরি হয়েছে ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের রায়ের পরিপত্র বাতিলের মধ্য দিয়ে। সেই কারণেই ‘জুলাই সনদ’-এ ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ভূমিকা ইতিহাসভিত্তিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন কোনো একদিনে গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘ নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে এই আন্দোলন চলেছে; চলেছে হামলা, মামলা, গ্রেফতার, নির্যাতন এবং নানা ধরনের দমনপীড়নের মধ্য দিয়ে। কিন্তু তারপরও সাধারণ শিক্ষার্থী ও তরুণদের ঐক্য এবং প্রত্যয়ের কারণে আন্দোলন সফলতা অর্জন করে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়কার দমনপীড়নের প্রসঙ্গ টেনে শাকিল বলেন, “তৎকালীন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে প্রকাশ্যে মারধর করে। মো. রাশেদ খাঁনকে রিমান্ডে নিয়ে ১৫ দিন ধরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তরিকুলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরেফিন এখনো চোখে স্প্লিন্টার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।”
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শাকিল বলেন, “আমি নিজেও এই আন্দোলনে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এমনকি আমার পরিবারও হয়রানির মুখে পড়ে। এই আন্দোলনে অসংখ্য ছাত্র ও তরুণ নির্যাতিত হয়েছে, তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই কোটা সংস্কার আন্দোলন সফল হয়।”
তিনি বলেন, “এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশে গণসচেতনতার এক নতুন ধারা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি স্থাপন করে। তাই ইতিহাসের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্য তুলে ধরতে ‘জুলাই সনদ’-এ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।”



