ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিতিন বছরে বন্ধ হয়েছে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা: বাণিজ্যমন্ত্রী

তিন বছরে বন্ধ হয়েছে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা: বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশে গত তিন বছরে ৪০০-এর বেশি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সদস্য ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্য ১২৩টি কারখানা রয়েছে। 

বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা, করোনা পরিস্থিতির প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এসব কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন জানতে চান, দেশে বর্তমানে কতটি তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, বন্ধ কারখানাগুলোর নামের তালিকা এবং বন্ধ হওয়ার কারণ কী। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও জানতে চান তিনি।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএর ২৮২টি এবং বিকেএমইএর ১২৩টি সদস্য কারখানাসহ ৪০০-এর অধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, কারখানা বন্ধের পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আমেরিকা-ইরান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক মন্দা পরিস্থিতি। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিদেশি ক্রেতাদের ছোট ও মাঝারি কারখানা থেকে রপ্তানি আদেশ দিতে অনাগ্রহও কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তৈরি পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকার বিভিন্ন ধরনের নগদ সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রপ্তানিকারকদের জন্য অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা এবং তৈরি পোশাক খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা দেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতে ০ দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের মাধ্যমে সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে এসব কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular