হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা সদরে পূর্ববিরোধে জের ধরে সোমবার বিকেলে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও দুই শতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৩০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতোলে ভর্তি করা হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষ থামাতে উপজেলা শহরে সোমবার বিকেল থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সোমবার বিকেল ৪টা থেকে আগামীকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত নবীগঞ্জ শহরে এ ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।
সংর্ষর যেভাবে শুরু:
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেখালেখি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আশাহিদ আলীকে গত ৪ জুলাই নবীগঞ্জে অপর গণমাধ্যমকর্মী সেলিম তালুকদার ও তাঁর লোকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় আনমুন গ্রামের লোকজন হামলাকারীদের মধ্যে আনমনু গ্রামের ২ তরুণকে আটক করে পুলিশে দেন। এতে তিমিরপুর গ্রামের লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠেন তাঁদের লোকজনকে আনমুন গ্রামের লোকজন ধরে পুলিশে দেওয়ায়। এ নিয়ে তিন দিন আগে ওই দুই গ্রামের লোকজন মারামারি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ মারামারি সূত্র ধরে সোমবার দুপুরে ঘোষণা দিয়ে আনমুন ও তিমিরপুর গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হতে থাকেন নিজ নিজ এলাকায়। একপর্যায়ে বিকেলে উপজেলা সদরে ওই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল, বল্লম ধারালো অস্ত্রসহ নানা দেশি অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেন। সংঘর্ষকালে উভয় পক্ষের ২ জন নিহত ও প্রায় শতাধিক লোকজন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি দোকানপাট।
এতে পুরো উপজেলা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, তুচ্ছ বিষয় থেকে তিমিরপুর ও আনমুন গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়ান । এ সময় বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংয়োগের ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে পুলিশ জানিয়েছে।



