ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিনারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ ও ব্র্যাক ব্যাংক সহায়তা করছে

নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ ও ব্র্যাক ব্যাংক সহায়তা করছে

নিউজ ডেস্ক:   একটি ধারণাকে ব্যবসায় রূপ দেওয়া থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত, প্রবৃদ্ধির প্রতিটি পর্যায়েই নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন হয় ভিন্ন ধরনের সহায়তা। তাদের এই পরিবর্তনশীল চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক উইমেন উইমেন ব্যাংকিং সেগমেন্ট ‘তারা’ -এর আওতায় এমন সব উদ্যোগ নিয়েছে, যা উদ্যোক্তাদের মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলতে, নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে সহায়তা করে।

মূল্যবোধনির্ভর ব্যাংক হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের এই যাত্রায় সহায়তা দিতে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, নেটওয়ার্কিং ও বিক্রির প্ল্যাটফর্ম সবকিছুকে একসূত্রে যুক্ত করেছে। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার বিকাশের পথে পাশে থাকার অঙ্গীকার তুলে ধরেছে ব্র্যাক ব্যাংক। পাশাপাশি, এগুলো উদ্যোক্তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ, যোগাযোগের সুযোগ ও আত্মবিশ্বাস জোগায়।

‘তারা’র প্রধান উদ্যোক্তা বিকাশ কর্মসূচি নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সাক্ষরতা এবং বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতিমূলক দক্ষতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

তিন মাসের এই কর্মসূচিতে রয়েছে ব্যবসাবিষয়ক শিক্ষা, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা, কেস স্টাডি, অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং বাণিজ্য মেলা। এর মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ে এবং আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবা সম্পর্কে তারা ধারণা পান।

২০২১ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এক হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

‘আমরাই তারা’ কর্মসূচির আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (ডব্লিউএসএমই) জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তিন দিনব্যাপী নিবিড় কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এসব কর্মশালায় ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, নথিপত্র ব্যবস্থাপনা, ব্র্যান্ডিং, বিপণন এবং আর্থিক ও ডিজিটাল কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রতি বছর নারী উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন ১,২০০টিরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ পান। চার বছরে এই উদ্যোগের কার্যক্রম বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪০টিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যার আওতায় রয়েছে গ্রামীণ, আধা-শহুরে ও শহরাঞ্চল।

‘উদ্যোগতারা’ কর্মসূচিতে বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত বিপণন, ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাপ্লিকেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

২০২৪ সাল থেকে নারী-মালিকানাধীন ৩০০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য উন্নত ডিজিটাল সাক্ষরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ প্রশিক্ষণ তাদের অনলাইন বাণিজ্য পরিচালনায় সহায়তা করছে।

প্রতি বছর আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা’ ঈদকে কেন্দ্র করে কেনাকাটার ব্যস্ততম সময়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রাখে।

মেলার চারটি আসরে ৪০০ নারী উদ্যোক্তা বিনা মূল্যের স্টলে নিজেদের পণ্য প্রদর্শন করেছেন। এতে তাদের পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো, ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিক্রির নতুন সম্ভাবনা খোঁজার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মেলায় স্থানীয় উদ্ভাবন ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও তুলে ধরা হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতি তিন মাস পরপর এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে প্রায় ৬০০ নারী উদ্যোক্তা ব্যাংকের কর্মীদের কাছে নিজেদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন।

এই কর্মসূচি ও ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা’ মিলিয়ে বছরে নারী উদ্যোক্তাদের ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি পণ্য বিক্রি হয় এবং ৭০ লাখ টাকার আগাম অর্ডার পান।

ব্র্যাক ব্যাংক তার ১৯৫টি শাখার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ নারী উদ্যোক্তাকে ব্যাংকিং সেবা ও আর্থিক সাক্ষরতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়।

অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও বাজারে প্রবেশের সুযোগের সমন্বয়ে এসব উদ্যোগ নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে সহায়তা করে।

নারীদের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও বাজার সৃষ্টির নানা উদ্যোগ সস্পর্কে ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, নারীদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠাকে একটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। নারীরা যখন সফল ব্যবসা গড়ে তোলেন, তখন তারা মানুষের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করেন, নিজেদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। ব্যাংক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের এই সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ নিশ্চিত করতে সহায়তা করা। আমরা চাই, আরও বেশি নারী দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলুক এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে তাদের কণ্ঠ আরও জোরালো হোক।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular