এটিএম মাসুমের মন্তব্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামতে হবে
নাজমুল হোসেন : ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা আবারও দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম। তিনি বলেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামতে হবে। আন্দোলনের শক্তিকে সুসংহত করতে নেতাদের নজর দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো স্বৈরশাসক মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা ট্রেড ইউনিয়নের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম মাসুম বলেন, ‘দেশের অবস্থা খুব ভালো না। জুলাই আন্দোলনে শ্রমিক-জনতা, ছাত্র ও মেহনতি মানুষ যেভাবে রাজপথে এসে ১৫ বছরের জঘন্যতম স্বৈরাচারকে বিদায় করেছিলেন, রক্ত দিয়েছিলেন, জীবন দিয়েছিলেন—ভবিষ্যতে মনে হচ্ছে, যারা ক্ষমতায় আছে তারা আবারও এ ধরনের একটি ফ্যাসিবাদের দিকে দেশকে নিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অবস্থায় আবারও প্রয়োজনে আমাদের রাজপথে নামতে হবে। আবারও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। আন্দোলনের শক্তিকে মজবুত করার দিকে নেতৃবৃন্দকে নজর দিতে হবে, যাতে আগামী দিনে বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরশাসক মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।’
আন্দোলনের লক্ষ্য তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে মানুষ আন্দোলন করেছে ও জীবন দিয়েছে, সেই লক্ষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশে প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এটিএম মাসুম। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার সন্তানদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইউটিউব, ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, এখন আর ছেলেরা সিনেমা হলে যায় না, কারণ প্রত্যেকের পকেটেই একটি সিনেমা রয়েছে। সন্তানদের এসব নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে রাখতে না পারলে তাদের নৈতিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে নজর দিতে হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মমিন উল্যাহ পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্যাহ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি মমিনুল হক, লক্ষ্মীপুর শহর সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল আলম মিরন, সদর উপজেলা সভাপতি আমির হোসেন ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সভাপতি কাওসার আহমেদ প্রমুখ।



