জাকারিয়া মিঞা, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ১০ হাজার ২ শত ৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। ধান কাটার সময়ে বৈরী আবহাওয়া, শ্রমিক সংকট ও ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে ধান আবাদে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও ধান কাটার মৌসুমে একদিকে বৈরী আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুরির কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। একই সময়ে অধিকাংশ জমির ধান পাঁকায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ সুযোগে শ্রমিকরা বেশি মজুরি দাবি করছেন। পরে ধান কেটে ঘরে তুললেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাড়াই ও শুকানোয় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
অতিবৃষ্টিতে অনেকের ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধানই যখন শুকাতে পারছে না কৃষক, তখন খড় নিয়ে ভাববার সময় কোথায়? খড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ মৌসুমে গো-খাদ্যের সংকটে পড়তে হবে এ আঞ্চলের কৃষকদের।
ফুলবাড়ী উপজেলার অনেক কৃষক বলেন, ধান আবাদ না করে উপায় কি? খরচ যতই হোক চাষ করতে হয়। কিন্তু এত কষ্টের পরও ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে না পারলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। আবার শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় লাভের চেয়ে লোকসানের চিন্তাই বেশি। ধান কাটার জন্য হারভেস্টার যন্ত্রের সহজলভ্য হলে কৃষকরদের দূর্ভোগ অনেকটাই কমতো।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফা ইয়াছমিন জানান, এবার উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ ও উৎপাদন ভালো হয়েছে। কৃষকদের ধান কাটায় সহায়তার জন্য আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




