ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআলোকিত মুখফুলবাড়ীতে লাউচাষে স্বাবলম্বী ছয় তরুণ​

ফুলবাড়ীতে লাউচাষে স্বাবলম্বী ছয় তরুণ​

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিবেদক:  কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোছাবাড়ী ও রাঙ্গামাটি এলাকায় ওয়াপদা বাঁধের দুই পাশে  লাউচাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ছয় তরুণ।
 
দীর্ঘদিন থেকে পতিত জায়গায় গড়ে তোলা এ লাউয়ের ক্ষেত স্থানীয়দের নজর কাড়ছে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগে সৃষ্টি হচ্ছে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান।​ এ লাউ চাষের উদ্যোক্তারা হলেন, শাহাদাত হোসেন, আলতাফ হোসেন, জিয়াউর রহমান, আশরাফুল আলম, মফিজুল হক ও মোঃ হাকিম। 
 
ছয় তরুণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ওয়াপদা বাঁধের দুই পাশে এখন সবুজের সমারোহ। বাঁশের মাচা তৈরি করে সেখানে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন জাতের লাউয়ের চারা। জমি তৈরিতে ডায়ামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও জৈব সার ব্যবহার করা হয়েছে। বাঁশের মাচা তৈরি ও পরিচর্যায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ জন স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা।​ 
 
সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াপদা বাঁধের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাউয়ের মাচা। মাচায় ঝুলছে অসংখ্য লাউ। কোথাও শ্রমিকরা ক্ষেত পরিচর্যা করছেন, আবার কোথাও সংগ্রহ করা হচ্ছে পরিপক্ব লাউ।​ ক্ষেত্রটিতে কাজ করা স্থানীয় শ্রমিক রহিম উদ্দিন (৪৫) বলেন, আগে এই বাঁধে কোনো কাজ ছিল না। এখন লাউ ক্ষেতে কাজ করে সংসার ভালোভাবে চলছে। পতিত জায়গাটা এখন অনেকের রিজিকের ব্যবস্থা করেছে।​ 
 
উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, সম্পূর্ণ নিজেদের জমানো টাকায় তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। কোনো ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ পাননি তারা। লাউ চাষে তাদের এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
 
ইতোমধ্যে উৎপাদিত লাউ স্থানীয় বাজারসহ পার্শ্ববর্তী শহরের বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে।​ বর্তমানে বাজারে প্রতি পিস লাউ পাইকারি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় এবং খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে ৭ লাখ টাকার লাউ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তারা। খরচ বাদ দিয়ে ভালো পরিমাণ লাভ হবে বলে আশা  উদ্যোক্তাদের। 
 
সরকারি এ ওয়াপদা বাঁধে সবজি চাষ হলেও এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কোনো প্রকার বাধা দেয়নি বরং উৎসাহ জুগিয়েছে।​ তারা জানান, শুধু লাউ চাষ নয়, একই জমিতে সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য সবজি চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে একই জায়গা থেকে একাধিক ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে সাথি ফসলের চাষ শুরু হলে আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা তাদের।​ 
 
উদ্যোক্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, পতিত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে কিছু করার চিন্তা থেকেই আমরা ছয়জন মিলে লাউ চাষ শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ টাকার লাউ বিক্রি হয়েছে।
 
আশা করছি ভালো দাম পেলে আমরা আরও লাভবান হব। ভবিষ্যতে চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে কাজটি আরও সহজ হতো।​ 
 
স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, পতিত জায়গায় সবজি চাষের মাধ্যমে একদিকে জায়গার ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ছে। সঠিক পরিচর্যা, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ থেকে উদ্যোক্তারা ভালো ফলন পেতে পারেন।​ 
 
স্থানীয়রা বলছেন, ছয় তরুণের সম্মিলিত উদ্যোগ শুধু তাদের নিজেদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করছে না, বরং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান ও সবজি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।
 
/জাকারিয়া মিঞা/
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular