ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeকৃষিঅস্তিত্ব সংকটে ১০ মৎস্য অভয়াশ্রম, পলি-বালুতে ভরাট বিল

অস্তিত্ব সংকটে ১০ মৎস্য অভয়াশ্রম, পলি-বালুতে ভরাট বিল

নিউজ ডেস্ক: প্রয়োজনীয় খনন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মৌলভীবাজারের হাকালুকি ও হাইল হাওরের ১০টি সরকারি মৎস্য অভয়াশ্রম। দীর্ঘদিন ধরে পলি মিশ্রিত মাটি ও বালু জমে ভরাট হয়ে গেছে এসব জলাভূমি; যার কারণে জলাধারগুলোতে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে হাওরের জীববৈচিত্র্য। ঝুঁকিতে রয়েছে দেশীয় প্রায় ১৪৩ প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় মাছের প্রজনন, বংশবিস্তার ও নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী অংশে পাঁচটি বিলসহ মোট ৯টি বিলকে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিলের মধ্যে রয়েছে তেকুনিয়া, মাইয়াজুড়ি, কোয়ার কোনা, মাইছলার ডাক ও সানে মেদী বিল।

২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে এসব অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে সানে মেদী বিলের এক হেক্টর জলাশয় এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অন্যদিকে, শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে ১১৮ হেক্টর এলাকাজুড়ে তিনটি বিল নিয়ে ২০০৩ সালে গড়ে তোলা হয় বাইক্কা বিল অভয়াশ্রম। মাছের পাশাপাশি পাখি ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পলি ও বালু জমে অনেক স্থানে জলাশয়ের গভীরতা কমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় মাছের বিচরণ ও আশ্রয়স্থল সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, বর্ষায় কচুরিপানা ও আগাছার বিস্তার জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য ব্যাহত করছে। মাছের প্রজননের উপযোগী গভীর জলাশয় ও প্রাকৃতিক গর্ত ভরাট হয়ে যাওয়ায় ডিম ছাড়া, পোনা বেড়ে ওঠা এবং মাছের নিরাপদ আশ্রয়, সবই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পদ্ম, শাপলাসহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদের আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য ও নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রের অভাবে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতিও কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এসব অভয়াশ্রমের পরিবেশগত গুরুত্ব ও মাছের প্রাকৃতিক প্রজননব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাইক্কা বিল অভয়াশ্রমের মিন্নত আলী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং, বিলের গভীরতা পুনরুদ্ধার ও সরকারি তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন এই অভয়াশ্রমের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় নেতা আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, দেশীয় অনেক স্বাদু পানির মাছ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অবশিষ্ট প্রজাতিগুলোকে রক্ষা করতে হলে পরিকল্পিতভাবে হাওর ও বিল খনন এবং জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা জরুরি।

মৌলভীবাজারের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফ হোসেন অভয়াশ্রমগুলো পলি ও বালুতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিলগুলো পুনর্খননের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।মানচিত্র দেখুন

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বাইক্কা বিলসহ জেলার ১০টি মৎস্য অভয়াশ্রমের সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular