ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিবাংলাদেশে ব্যবসা বন্ধ করছে প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল

বাংলাদেশে ব্যবসা বন্ধ করছে প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল

নিউজ ডেস্ক :    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক ফাস্ট-মুভিং কনজিউমার গুডস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল (পিঅ্যান্ডজি) বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটির দুই বছরের পূনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় বাজারে গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা তৃতীয় পক্ষের পরিবেশকদের ওপর নির্ভর করবে—তবে সরাসরি স্থানীয় ব্যবসা ও উৎপাদন কার্যক্রম ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে।

পিঅ্যান্ডজি বাংলাদেশে ১৯৯৪ সাল থেকে ব্যবসা করে আসছে। দীর্ঘ তিন দশকের এই যাত্রায় কোম্পানিটি প্রাণ গ্রুপের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ করে ২০২১ সালে হবিগঞ্জের অলিপুরে একটি কারখানা স্থাপন করেছিল। এ কারখানায় জিলেট ব্র্যান্ড রেজরসহ বেশ কয়েকটি পণ্য উৎপাদন শুরু করা হয়।

সেই উদ্যোগে প্রাণ গ্রুপের অ্যাডভান্সড পারসোনাল কেয়ার লিমিটেড (এপিসিএল) ও পিঅ্যান্ডজি মিলিয়ে মোট ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জন্য আমেরিকার তখনকার রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু কিছুদিন পরই—চার বছর না পূরণ হতেই—কোম্পানিটি বাংলাদেশ থেকে নিজেদের কার্যক্রম স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদিভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল। কোম্পানিটির প্রথম ধাপ হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বরেই জিলেট ইন্ডিয়ার সঙ্গে পরিবেশক চুক্তি বাতিলের ঘোষণা আসে এবং ৩১ ডিসেম্বর তা কার্যকর হয়।

এরপর স্থানীয় একক পরিবেশক এমজিএইচ গ্রুপের শাখা ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ডস লিমিটেড (আইবিএল)-এর সঙ্গে চুক্তি নবায়নের পথে না গিয়ে পিঅ্যান্ডজি তাদের সাথে চুক্তি বাতিল করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি আইবিএল-কে জানিয়েছে, ইচ্ছা থাকলে তারা স্বাধীন উদ্যোগে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে বিক্রি চালিয়ে যেতে পারে—সেটা সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় পরিবেশকের উপরে রাখা হয়েছে।

পরিবেশক চুক্তি বাতিলের প্রভাব বাজারে দ্রুত পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন সুপারশপ ও বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে পণ্য মজুদ ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যাচ্ছে—বিশেষ করে রেজর ও স্যানিটারি প্যাডের মজুদ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সরবরাহকারী থেকে সরাসরি পণ্য না আসায় শোরুমগুলোতে নতুন সরবরাহ পৌঁছাচ্ছে না; যারা পূর্বে ঝুঁকিপূর্ণ স্টকে রেখেছিলেন, তারা এখনও বিক্রি করছেন, কিন্তু মজুদ শেষ হলে নতুন সরবরাহ নেই।

বাংলাদেশের বাজারে পিঅ্যান্ডজির স্বীকৃত ও জনপ্রিয় পণ্যের মধ্যে রয়েছেন — জিলেট রেজর ও গ্রুমিং পণ্য, ওরাল-বি, প্যাম্পারস, হুইসপার, হেড অ্যান্ড শোল্ডার, প্যান্টিন, ওলে ফেস অ্যান্ড স্কিন কেয়ার, অ্যারিয়াল ও টাইড ডিটারজেন্ট, মি. ক্লিন ক্লিনার ও ভিক্স। বেশ কিছু পণ্যই আগে স্থানীয় উৎপাদন থেকেই সরবরাহ করা হয়েছে; কিন্তু এখন উৎপাদনও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে প্রান গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পিঅ্যান্ডজির এই সিদ্ধান্তের হিসেবে কোম্পানি জানিয়েছে—গ্লোবাল স্তরের পুনর্গঠন ও ব্যয় সংকোচন। পিঅ্যান্ডজি তাদের ঘোষিত ৭,০০০ অনুৎপাদন কর্মী ছাঁটাই করবে; এতে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত কোম্পানির মোট কর্মীসংখ্যার (প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার) ৬.৪% কাটা পড়বে।

কোম্পানিটির লক্ষ্য—ব্যবসায় পুনঃবিনিয়োগের জন্য অর্থ সঞ্চয়। এ ছাঁটাইয়ের প্রভাব তাদের প্রধান সদর দফতর সিসিনাটিতেও পড়বে, যেখানে আনুমানিক ১০ হাজার অফিসকর্মী কর্মরত আছেন। আগেই ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া থেকে পিঅ্যান্ডজি পুরো কার্যক্রম তুলে নিয়েছিল; চলমান অর্থবছরে (২০২৪ জুলাই থেকে ২০২৫ জুন) তাদের বৈশ্বিক বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮৪.৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বড়।

প্রাণ গ্রুপ

প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, ‘পিঅ্যান্ডজি জানিয়েছে যে জানুয়ারি থেকে তাদের আমাদের কারখানায় পণ্য উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বর্তমান কারখানার অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি আগের অবস্থায় আছে; পিঅ্যান্ডজি যখন অনুমতি দেবে আমরা উৎপাদন শুরু করে দেব।’

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পিঅ্যান্ডজির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে সংস্থাটির দুর্বল পারফরম্যান্স, অভ্যন্তরীণ খরচ-নিয়ন্ত্রণ ও অনুকূল না থাকা বিক্রয় বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। স্থানীয় গ্রাহক ও রিটেইল চেইনগুলো এখন বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজতে শুরু করেছে—তবে তা সম্পূর্ণরূপে বদলী করতে সময় লাগবে।

ঢাকানিউজ২৪/মহফ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular