ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশবার আউলিয়া মাজার শরীফের বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত

বার আউলিয়া মাজার শরীফের বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত

মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক বার আউলিয়া মাজারে একদিনের বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বৈশাখের শেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে- ২০২৬) উৎসবমূখর পরিবেশে ওরশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওরশ উপলক্ষে দিনব্যাপি চলে মাজার জিয়ারত,তবারক বিতরণ কার্যক্রম। সকাল থেকেই জেলার প্রত্যন্ত এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানতের চাল, মুরগী,কবুতর, গরু-ছাগল ও নগদ অর্থসহ ভক্তরা সমেবেত হন ঐতিহাসিক বার আউলিয়া মাজার প্রাঙ্গণে। এ উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বার আউলিয়া মাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী জানান, বার আউলিয়া মাজারে ওরশ উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মাজার এলাকায় পর্যাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, গ্রাম পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী সহ সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এ উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণ সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আছে। নিরাপত্তাসহ সকল আনুষ্ঠানিকতার মূল তদারকীতে থাকছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ।

স্থানীয় জনশ্রুতি মতে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রায় কায়েকশত বছর আগে এ এলাকাটি ঘন জঙ্গল ছিল। সেই সময় বার জন ওলী ও সুফি সাধক চট্রগ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে করতে দেশের সর্ব উত্তরের পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে এসে পৌঁছান এবং এখানে আস্তানা গড়ে তোলে এ এলাকায় ইসলাম প্রচার শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁদের মৃত্যুর পর ওই স্থানে তাঁদের সমাহিত করা হয়। আর এভাবেই গড়ে উঠে বার আউলিয়া মাজার শরীফ। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার বার আউলিয়া মাজার শরীফে একদিনের বার্ষিক ওরশ অনুষ্ঠিত হয়।

বার জন আউলিয়া হলেন, হেমায়েত আলী শাহ্ (র:), কেরামত শাহ্ (র:), আজহার আলী শাহ্ (র:), হাকিম আলী শাহ্ (র:), মনসুর আলী শাহ্ (র:), মমিনুল শাহ (র:), শেখ গরীবুল্লাহ (র), আমজাদ আলী মোল্লা (র:), ফরিজ উদ্দীন আখতার (র:), শাহ্ মোক্তার আলী (র:) ও শাহ্ অলিউল্লাহ ্(র:)।

জানা যায়, অত্র এলাকায় ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব বা প্রচার এই ১২ জন অলি আউলিয়ার হাত ধরেই শুরু হয়। বার আউলিয়াদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। বার আউলিয়া মাজার শরীফটি মির্জাপুরের বার আউলিয়া মৌজার প্রায় ৪৭ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ১২ জন আউলিয়াকে এই বিস্তীর্ণ ৪৭ একর জমির ১১ টি স্থানে সমাহিত করা হয়েছে। মাজার শরীফ এলাকার কেন্দ্রে হেমায়েত আলী শাহ্ (র:) ও নিয়ামত উল্লাহ শাহ্ (র:) কবর দু’টি পাশাপাশি একসাথে অবস্থিত, যা জোড়া কবর নামে পরিচিত।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular