বিপিএলকে ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটির স্লটও ঠিক করেছে গভর্নিং কাউন্সিল। ক্রিকেটাররা যাতে টি২০ লিগে খেলার ছন্দ নিয়ে বিশ্বকাপে যেতে পারেন, সে অনুযায়ী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে হবে বিপিএলের ১২তম আসর। জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলে একটু এদিক-ওদিক করে চূড়ান্ত করা হবে লিগের সময়সূচি। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলে ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করা হবে লিগের খেলা। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত হবেন।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি টি২০ লিগটি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বয় করে আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য স্লট ঠিক করে বাকি প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেখানে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কর্মকর্তারা গতকাল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের কাজ শুরু করে। বিডে অংশ নেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের চারটি আন্তর্জাতিক আর একটি দেশি-বিদেশি সমন্বিত। প্রেজেন্টেশন শেষে আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটিকে বেছে নেওয়া হবে। জানা গেছে, ১৩ বছর আইপিএল আয়োজন করার অভিজ্ঞতা থাকা ইন্টারন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট গ্রুপকে (আইএমজি) তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে।
বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বা টি২০ লিগ আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা আছে, এমন প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কর্মকর্তারা। এক্ষেত্রে আইপিএল নিয়ে কাজ করা আইএমজিকে প্রথম পছন্দ বিসিবির। ২০০৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আইপিএল আয়োজনের দায়িত্বে ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানটি। ইনস্টেডিয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল টিসিএম স্পোর্টস। তারাও আইএমজির সঙ্গে বিপিএল আয়োজনের স্বত্ব পেতে বিডে অংশগ্রহণ করেছে কিনা জানা যায়নি।
গভর্নিং কাউন্সিলের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিডে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করলাম। তারা কীভাবে বিপিএল পরিচালনা করবে এবং কত টাকা দেবে, সেগুলো দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবগুলো প্রতিষ্ঠানই আন্তর্জাতিক হওয়ায় একটা প্রতিযোগিতা থাকবে আশা করি।’ শনিবার ছিল দরপত্রে অংশগ্রহণের শেষ সময়। আর গতকাল ছিল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের তারিখ। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ হয়ে গেলে বাকি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
বিপিএলের বিগত ১১ আসরের অভিজ্ঞতা থেকে ইমেজ ফেরানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানান গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আনাম। সে কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া। গত এক মাসে চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আনাম কমিটির সদস্যদের নিয়ে কাজ অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছেন। বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেছেন তারা। বিশেষ করে, ক্রিকেটার ও সাংবাদিকরা নিজেদের মতামত দিয়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি মনোনয়নের কাজও বেশ এগিয়ে গেছে।
ছয় বছরের জন্য দেওয়া হতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগও থাকতে পারে দলগুলোতে। ১২তম আসরে নেওয়া হতে পারে ছয়টি দল। ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করা হবে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার পর। কারণ বিপিএলে বিদেশি বিনিয়োগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আইএমজি নিয়োগ পেলে বিদেশি স্পন্সর ও আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল দেখা যেতে পারে বিপিএলে।



