ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ভ্যান চুরিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জাকু মাতুব্বর (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
রোববার রাত পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিহতের মরদেহ ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ১৩ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আলগী ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. কামরুজ্জামান সমকালকে জানান, কয়েকদিন আগে নলিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির ভ্যান চুরি করেন সোনাখোলা গ্রামের আরেক ব্যক্তি। পরে আজ সন্ধ্যায় সেই ভ্যান চুরির বিচার দাবিতে নলিয়া গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি সোনাখোলা গ্রামে আসেন বিচার করতে। পরে বিচার চলাকালে দুই দফায় সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষের লোকেরা। উভয় পক্ষের কয়েকশ লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-সড়কি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ধাওয়া-পাল্টা করেন। এতে একজন নিহত ও আহত হয় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন।
নিহত জাকু মাতুব্বরের ভাতিজা বিপ্লব মাতুব্বর জানান, বিকেলে বিচার চলাকালে খাঁন গোষ্ঠীর লোকজন আমাদের মাতুব্বর গোষ্ঠীর লোকের ওপরে হামলা করে। এসময় তার চাচা জাকু মাতুব্বরকে মারপিট করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এতে তার মৃত্যু হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার দাবি করেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহমুদ মিয়া জানান, সন্ধ্যার সাড়ে ৭টার পর থেকে সোনাখোলা গ্রাম থেকে সংঘর্ষের রোগী আসা শুরু হয়। এতে মৃত অবস্থায় ১ জন ও আহত অবস্থায় অনেককে হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। এছাড়া গুরুতর আহত দুইজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির শরীরে প্রাথমিকভাবে কোনো ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন পাইনি।
থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ হোসেন জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তার মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।



