ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডমাদরাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারী নিহত

মাদরাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারী নিহত

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় গাজী শরিফুল ইসলাম (৩৮) নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

হত্যার সময় উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে হামলাকারী রাজু গাজীকে (৩৬) তাৎক্ষণিকভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

শরিফুল ইসলাম তালা উপজেলার শাহাপুর মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। তিনি উপজেলার হরিহর গ্রামের প্রয়াত মাওলানা আলিমুদ্দিন গাজীর ছেলে। হামলাকারী রাজু গাজী একই গ্রামের গোলাম মোস্তফা ওরফে খোকন গাজীর ছেলে।

খেশরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম লিয়াকত হোসেন জানান, রাজু কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি গতকাল রোববার বিকেলে শরিফুল ইসলামকে ডেকে মাদরাসার সামনে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাজু তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে শরিফুলকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, শরিফুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রাজুকে আটক করে। মুহূর্তেই উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে তিনিও ঘটনাস্থলেই মারা যান।

শাহাপুর দাওয়াতুল কুরানুল হাফেজিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফফার জানান, রাজু আগে থেকে মাদকাসক্ত। রোববার বিকেলের দিকে মাদরাসা এলাকায় এসেছে সে মাদ্রাসার ছাত্রদের উত্যক্ত করছিল। বিষয়টি নিয়ে ছাত্ররা মাদরাসার শিক্ষক শরিফুল ইসলামের কাছে নালিশ জানায়। এ সময় শরিফুল ইসলাম রাজুকে ছাত্রদের উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করলে রাজু তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

নিহত রাজুর ভগ্নিপতি দিদারুল আলম জানান, তার শ্যালক মানসিক ভারসাম্যহীন। সে একজনকে হত্যার পর নিজেও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে তারা মামলা করবে না।

খবর পেয়ে তালা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইনউদ্দিন জানান, দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ ও বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষক হত্যার ঘটনায় সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী সবাই মর্মাহত। শাহাপুর গ্রামে পরিস্থিতি থমথমে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular