ঢাকা  শনিবার, ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeশিরোনামমিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ

মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নামে-বেনামে পরিচালিত কিছু অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর দাবি করে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডা. বাছেদুর রহমান সোহেল। শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক লিখিত প্রতিবাদলিপিতে তিনি এ দাবি করেন।

প্রতিবাদলিপিতে ডা. বাছেদুর রহমান সোহেল বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়নের শান্তিধারা ৩ নম্বর রোড এলাকায় ১০ কাঠা জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে বায়না দলিল সম্পাদন করেন। পরবর্তীতে তিনি আইনানুগভাবে উক্ত জমি ক্রয় করেন এবং জমির বৈধ মালিকানা অর্জন করেন।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জমির মৌজা ভূঁইঘর। সি.এস. খতিয়ান নম্বর ১৬৯, এস.এ. খতিয়ান নম্বর ২২৯, আর.এস. নম্বর ৭৯৮, এস.এ. দাগ নম্বর ৩৫ এবং আর.এস. দাগ নম্বর ৩৮। জমির পরিমাণ ৪০ শতাংশের খাতে ১৫ শতাংশ এবং জমির শ্রেণি ‘নাল’।

প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জমিটির মালিকানার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সি.এস. রেকর্ডভুক্ত মালিক ছিলেন হলদর মন্ডল ও বিশ্বম্ভর মন্ডল। পরবর্তীতে উত্তরাধিকার সূত্রে দুর্গাচরণ মন্ডল এবং পরে রজনীকান্ত মন্ডলের নামে মালিকানা ও রেকর্ড হালনাগাদ হয়। এরপর ওয়ারিশ সূত্রে উত্তরাধিকারীগণ আইনগত দলিলের মাধ্যমে জমিটি হস্তান্তর করেন।

তিনি দাবি করেন, পর্যায়ক্রমে আমমোক্তারনামা, সাব-কবলা, নামজারি এবং অন্যান্য বৈধ দলিলের মাধ্যমে জমিটির মালিকানা হস্তান্তর হয়ে সর্বশেষ মোসা. রেহানা আক্তার গং-এর নামে বৈধভাবে নামজারি সম্পন্ন হয়। নামজারি খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০৩৩৬, যার তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২৬। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তারা জমির বৈধ ভোগদখলে রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, অতীতে স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যক্তি ও একটি চক্র ভুয়া দলিল এবং মিথ্যা মালিকানার দাবি দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জমি-সংক্রান্ত হয়রানির শিকার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার ও তার পরিবারের ক্রয়কৃত সম্পত্তি নিয়ে যে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং প্রকাশিত সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

একই সঙ্গে ফতুল্লা থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও প্রতিবাদ জানান ডা. বাছেদুর রহমান সোহেল। তিনি বলেন, জমি ক্রয় ও দখল গ্রহণের সময় এবং বর্তমান ওসির ফতুল্লা থানায় যোগদানের সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান ওসি মাহবুবুর রহমান চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফতুল্লা থানায় যোগদান করেন। অন্যদিকে তিনি গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসেই আইনগত প্রক্রিয়ায় জমির দখল বুঝে পান। ফলে বর্তমান ওসিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ওসি তার জমি দখলে সহায়তা করেছেন—এ ধরনের অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন।

প্রতিবাদলিপিতে ডা. বাছেদুর রহমান সোহেল আরও অভিযোগ করেন, ভূমিদস্যু ও ওলামা লীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান কাঁচপুরী এবং ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাখন চন্দ্র সরকার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফতুল্লা এলাকায় শত শত পরিবারকে নিঃস্ব করে বিভিন্ন জমি দখল করেছেন। তার দাবি, তার জমির সকল কাগজপত্র বৈধ হওয়া সত্ত্বেও ওই চক্র সংখ্যালঘু হিন্দু ইস্যু সামনে এনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবাদলিপির শেষে ডা. বাছেদুর রহমান সোহেল সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর, অসত্য ও মানহানিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা উচিত। অন্যথায় মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular