নিউজ ডেস্ক : ১১ অক্টোবর ২০২৫: আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত আলোকচিত্রী লেখক ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তুরস্কে পৌঁছেছেন এবং শনিবার ভোরে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমকে তুরস্কের একটি টার্কিশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে (ফ্লাইট নম্বর: TK 6921) ইস্তানবুলে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। পরে তিনি ঢাকাগামী বিশেষ ফ্লাইটে করে দেশে ফিরবেন; স্থানীয় সময় বিকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ইস্তানবুল থেকে রওনা হলে বিমানটি শনিবার ভোরে ঢাকায় অবতরণ করবে বলে জানিয়েছে প্রেস উইং।
শহিদুল আলম বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবাদিকতার একটি প্রাণীবন্ত আইকন। ফিলিস্তিন সংক্রান্ত নৌসংগঠনের কাজে অংশগ্রহণের সময়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক আটক হন তিনি। পরে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও তুরস্ক সরকারের মধ্যস্থতায় মুক্তি ও প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তুরস্কের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্নিষ্ট কূটনৈতিক দফতরদের কড়া সমন্বয়ের কথা তুলে ধরেছেন।
প্রেস উইং সূত্রে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ইস্তানবুল থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটটি ভোরে পৌঁছবে এবং জাতীয় কর্তৃপক্ষ সেখানে তাকে গ্রহণ করবেন।
এই প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতিতেও কূটনৈতিক উদ্যোগ ও মধ্যস্থতা -সক্রিয় ছিল; বাংলাদেশ ও তুরস্কের দূতাবাসগুলো নিয়মিত স্বক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
তুরস্কের রাষ্ট্র এবং পর্যায়ক্রমিক প্রশাসন কর্তৃক মধ্যস্থতার কারণেই দ্রুত ও নির্বিঘ্নভাবে দেশে প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন।
ইস্তানবুল বিমানবন্দরে উপস্থিত কনসাল অফিসারের বরাত দিয়ে সরকারের এক সূত্র জানায়, “কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান; পরবর্তী প্রয়োজনে কনস্যুলেট তার সব রকম সহায়তা নিশ্চিত করবে।”
প্রেস উইংয়ের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদেশে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও তাদের সুষ্ঠু ফেরত পৌঁছে দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার বলে বিবেচিত হয়েছে।
ঢাকা পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে বিমানবন্দরে গ্রহণ করবেন।
দীর্ঘ প্রবাস ও স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রয়োজনে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে।
কনসুলারি নথিপত্র, কাগজপত্র যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন হবে।
উপযুক্ত সময় ও স্থানে তিনি বা তাঁর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা তুরস্ক সরকারের মধ্যস্থতায় মুক্তির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মুক্তির খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে গ্লোবাল মানবাধিকার সংগঠন ও মিডিয়া কর্মীরা উল্লসিত প্রতিক্রিয়া জানান।
অনলাইনও প্ল্যাটফর্মে সমর্থন ও আনন্দ প্রকাশ করে বিভিন্ন পোস্ট করা হয়েছে।
শহিদুল আলম বহুদিন ধরেই মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছেন। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার কাজ দেশ-বিদেশে আলোচিত। এর ফলে তার নিখোঁজ বা আটক সংক্রান্ত খবরগুলো দ্রুত আন্তর্জাতিক মনোযোগ পায় এবং কূটনৈতিক চাপ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
আলোকচিত্রী লেখক ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমের ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



