নিত্যপণ্যের বাজারে কয়েক সপ্তাহ ধরে সবজি, মুরগি ও ডিমের দাম চড়া। এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে আটা, ডালসহ নতুন কিছু পণ্য। হিমাগার ফটকে সরকার আলুর দাম বেঁধে দিলেও সবজির দাম একই রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের কলোনি বাজার, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এক মাসের বেশি সবজি ও মুরগির বাজার চড়া। তিন-চার দিন আগেও ব্র্যান্ডভেদে প্যাকেটজাত প্রতি কেজি আটা বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। গতকাল তা বিক্রি হয় ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা। কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৪৮ টাকায়, যা সপ্তাহ দুয়েক আগে ছিল ৪০-৪২।
একইভাবে খোলা ও প্যাকেট ময়দার দামও কেজিতে বেড়েছে পাঁচ-সাত টাকা। সপ্তাহ দুয়েক আগে প্যাকেটজাত ময়দা ছিল ৬০-৬৫ টাকা, গতকাল বিক্রি হয় ৬৫-৭২ টাকায়। খোলা ময়দা কিনতেও গুনতে হচ্ছে কমবেশি ৬০ টাকা।
ডালের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। ভালো মানের এক কেজি মসুর ডালে লাগছে ১৪৫-১৫০ টাকা। সপ্তাহ দুয়েক আগে এ মানের ডাল কেনা গেছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। সেই হিসেবে কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। একইভাবে বড় দানার মসুর ডাল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। মুগডালের দাম কেজিতে ১৫-২০ ও ছোলার দাম ৫-১০ টাকা করে বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। চালের দামের লাগাম টানা এখনও সম্ভব হয়নি। ভোক্তাকে কিনতে হচ্ছে বাড়তি দরেই।
রাজধানীর তেজকুনিপাড়া এলাকার মায়ের দোয়া স্টোরের কর্ণধার হেলাল উদ্দিন বলেন, পাইকারি বাজারে ডালের দাম বাড়তি এক মাস ধরে। তবে যেটুকু বেড়েছে, এখানেই থেমে থাকবে বলে মনে হয় না। আটা-ময়দার সরবরাহ পর্যায়ে কিছুটা টান আছে। সেজন্য দাম কমবে কিনা, বলা যাচ্ছে না।
সবজির বাজার এখনও চড়া। বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। গত সপ্তাহের মতো বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। করলা ৮০-১০০, কচুর লতি ৭০-৯০, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০, কচুর মুখী ৪০-৬০, ধুন্দল-চিচিংগা ও ঝিঙা ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপের দর কিছুটা কম। প্রতি কেজি কেনা যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। গত সপ্তাহের মতো কাঁচামরিচের কেজি কিনতে খরচ করতে হবে মানভেদে ১৮০ থেকে ২৪০ টাকা। আমদানি বাড়লেও বাজারে তেমন কমেনি পেঁয়াজের দর। এখনও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। তবে আমদানি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা।
এখনও চড়া দাম রয়েছে ডিম ও মুরগির বাজার। গত এক সপ্তাহে পণ্য দুটির দামে পরিবর্তন আসেনি। এখনও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা দরে। গত সপ্তাহেও ডিমের এ দর ছিল।
কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া বলেন, প্রতি বছর বর্ষাকালে সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। কারণ এ সময় বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় কয়েক মাস ধরে লোকসানে আলু বিক্রি করছিলেন কৃষক। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত বুধবার হিমাগার ফটকে আলুর ন্যূনতম মূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। তবে এখনও আলুর দাম বাড়েনি। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। অবশ্য পাড়া-মহল্লায় মুদি দোকানদারদের কেউ কেউ নিচ্ছেন ৩০ টাকা কেজি।



