ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসর্বশেষসেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি আজও তাড়া করে উপকূলের বাসিন্দাদের

সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি আজও তাড়া করে উপকূলের বাসিন্দাদের

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ইতিহাসে এক ভয়াল দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলীয় জেলা-উপজেলাগুলোর অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকার স্মৃতি আজও তাড়া করে চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের।চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, মিরসরাইসহ চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে আজও নির্মিত হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ।

এসব এলাকার বেশির ভাগ বেড়িবাঁধ পুরনো, দুর্বল এবং অনেক স্থানে ভেঙে গেছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় সামান্য ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাতেও স্থানীয়রা আতঙ্কে দিন কাটান।স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম ও ঘূর্ণিঝড়ের আগে বেড়িবাঁধগুলো সাময়িক মেরামতের কাজ করা হলেও তা খুবই অপ্রতুল। কোথাও কোথাও বাঁধে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। যা অল্প ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসেই ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে শুধু বাঁশখালীতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। ওই উপজেলার বাসিন্দারা এখনও ঘূর্ণিঝড়ের নাম শুনলেই আঁতকে ওঠেন। ওই ঘূর্ণিঝড়ে বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের বাসিন্দা শওকত আরা বেগম (৫৬) হারিয়েছেন তার তিন ছেলেমেয়েসহ দশ স্বজনকে।

সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় তছনছ করে দিয়েছিল গৃহবধূ শওকত আরার পুরো সংসার। তিন দশকের বেশি সময় ধরে সেই দুর্বিষহ স্মৃতি নিয়ে দিন কাটে তার। আজও খুঁজে পাননি ঘূর্ণিঝড়ে হারিয়ে যাওয়া তিন সন্তানের লাশও। শওকত আরা বেগম স্থানীয় সাংবাদিক মো. বেলাল উদ্দিনের মা।

১৯৯১ সালের সেই স্মৃতি মনে করে শওকত আরা বেগম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় শব্দটি শুনলেই আমার বুকে কম্পন শুরু হয়, এই বুঝি আবারও সব কেড়ে নিচ্ছে সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়ে আমার তিন ছেলেমেয়েকে হারিয়েছি। এ শোক আমি আজও বয়ে বেড়াচ্ছি। ছেলেমেয়েদের বাঁচাতে গিয়ে আমিও পানিতে ডুবতে বসেছিলাম। তখন স্বজনদের কেউ একজন আমাকে বাঁচিয়েছে।’শওকত আরা বেগমের ছেলে মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে আমার আট বছর বয়সী বড় ভাই জাহেদুল ইসলাম, ছয় বছর বয়সী ভাই শাহেদুল ইসলাম, আড়াই বছর বয়সী বোন লিলুফার আকতার, দাদি রাবেয়া খাতুন, মেজো চাচি তৈয়বা আক্তার এবং তার দুই সন্তানসহ ১০ জনকে হারিয়েছি। তাদের মধ্যে আমার তিন ভাইবোনের লাশ আজও পাওয়া যায়নি।’শওকত আরা বেগমের মতো সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড়ের সেই দুর্বিষহ স্মৃতি ভুলতে পারেননি উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকার বাসিন্দা শফকত হোসাইন চাটগামী (৪৬)। তিনি ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল তখন আমার বয়স ১২ বছর।

ওইদিন জলোচ্ছ্বাসে আমাদের ঘর ভেসে গিয়েছিল। পানির তীব্র স্রোত আর প্রচণ্ড বাতাসে ভেসে যায় পরিবারের সদস্যরা। বাবা মাওলানা রওশন আলী আমাকে একটি বড় গাছের ওপর তুলে দেন। আমি গাছটির ডাল ধরে বসেছিলাম। বাবা আমাকে গাছে তুলে দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজে উঠতে পারেননি। মা-বাবা, ভাইবোনকে চোখের সামনে পানির তীব্র স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সেদিন ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে যাই।’‘সারারাত ওই গাছের ডালে বসেছিলাম। পরদিন ঘূর্ণিঝড় থামার পর নেমে আশপাশে তাকিয়ে দেখি কারও সাড়াশব্দ নেই। পানির স্রোত কমার পর আশপাশে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। ঘরবাড়ির কোনও অস্তিত্ব নেই। চারদিকে লাশ আর লাশ।

’ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী বিভীষিকার বর্ণনা দিয়ে শফকত হোসাইন চাটগামী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের পরদিন বাবাকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে একটি মসজিদের ছাদের ওপর আহত অবস্থায় এবং মা মাহমুদা খানমকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে একটি খেজুর গাছে কাঁটাবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। মা এখনও বেঁচে আছেন। বাবা ২০০৬ সালে মারা গেছেন।’বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন বলেন,

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular