এ সময়ে ৮০০ জনের করোনারি এনজিওগ্রাম ও ২৭৫ জনের হৃদ্যন্ত্রে রিং স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আল আমিন, রংপুর : মাত্র ১৮ মাসে এক হাজারের বেশি হৃদরোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হার্ট সেন্টার। এ সময়ে ৮০০ জনের করোনারি এনজিওগ্রাম এবং ২৭৫ জনের হৃদ্যন্ত্রে রিং স্থাপন (পিসিআই) করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আধুনিক ক্যাথল্যাব ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে রংপুর বিভাগসহ আশপাশের জেলার হৃদরোগীদের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে হার্ট সেন্টারটি পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও রোগীদের অভিজ্ঞতার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। এ সময় নীলফামারী, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা সেবার মান নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান।
হার্ট সেন্টারের ১৮ মাসের চিকিৎসাসেবার পরিসংখ্যান তুলে ধরে রংপুর গ্রুপের পরিচালক ও হার্ট সেন্টারের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার জানান, এ সময়ে ৮০০ জনের করোনারি এনজিওগ্রাম, ২৭৫ জনের পিসিআই বা রিং স্থাপন, ৬৫ জনের পার্মানেন্ট পেসমেকার এবং ৪০ জনের টেম্পোরারি পেসমেকার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭৫ জনের ডিজিটাল সাবট্রাকশন এনজিওগ্রাফি (ডিএসএ) এবং ১০ জনের হৃদ্যন্ত্রের চারপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হার্ট সেন্টারে দক্ষ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টদের মাধ্যমে হৃদরোগ নির্ণয়, জটিলতা শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক ক্যাথল্যাবের মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল হৃদরোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার আরও বলেন, হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অনেক অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হার্ট সেন্টারে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। ছয়জন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টের মাধ্যমে করোনারি ও পেরিফেরাল এনজিওগ্রাম, রিং স্থাপন, পেসমেকার স্থাপন, পিটিএমসি এবং পেরিকার্ডিওসেন্টেসিসসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার বাইরে বিভাগীয় পর্যায়ে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার বলেন, ঢাকার বাইরে থাকা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এ ভোগান্তি কমাতে আঞ্চলিক পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, দক্ষ জনবল ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসা অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এ সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভূমিকা রাখতে হবে।



