আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-তে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার জের ধরে ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন নিবন্ধিত হলেও এর গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, ব্যাংকের কর্মচারীরা তাদের অধিকার ও দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে একটি ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেন। সে অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সকল শর্ত পূরণ করে গত ১ জুন, ২০২৫ তারিখে ইউনিয়নের নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়।
আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে শ্রম ভবন থেকে গত ১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং ব্যাংকের মোট কর্মচারী সংখ্যা সম্পর্কে ৭ দিনের মধ্যে তথ্য চাওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, চিঠির জবাব না দিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। এর ফলস্বরূপ, গত ৭ জুলাই, ২০২৫ তারিখে ইউনিয়নের উদ্যোক্তা ও নবগঠিত কমিটির সভাপতি মো. মাজেদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনসহ মোট পাঁচজন কর্মীকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরি থেকে টার্মিনেশন বা অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় শ্রম ভবন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে কর্মীদের চাকরিচ্যুত করার কারণ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠালেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তারও কোনো জবাব দেয়নি।
এতকিছুর পরেও, সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ২৪ জুলাই, ২০২৫ তারিখে ইউনিয়নটি শ্রম অধিদপ্তর থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন লাভ করে।
“আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক কর্মচারী কল্যাণ ইউনিয়ন” নামে নিবন্ধিত এই ইউনিয়নের নিবন্ধন নম্বর বি-২২৪১।
ভুক্তভোগী কর্মীদের দাবি, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা তাদের আইনসম্মত অধিকার, কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে প্রতিশোধ চরিতার্থ করার জন্য তাদের চাকরিচ্যুত করেছে, যা বাংলাদেশ শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।



