ঢাকা  শনিবার, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধকাবিল-কদম গং এর বিচার চেয়ে মুসলিম বাজার সমিতির সংবাদ সম্মেলন

কাবিল-কদম গং এর বিচার চেয়ে মুসলিম বাজার সমিতির সংবাদ সম্মেলন

সুমন দত্ত: পল্লবীর মুসলিম বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখি সমবায় সমিতির ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন কাবিল হোসেন সরকার ও কদম আলী মাতবর গং। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট ২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। এ সময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দোকান, জমি ও অর্থ হারানো কয়েকশ ব্যবসায়ী। তারা কাবিল হোসেন সরকার ও কদম আলী গং এর বিচার চান। পাশাপাশি এদের সহযোগী এস এম গোলাম মোস্তাফার বিচার চেয়েছেন।

বক্তারা বলেন, বিগত ১৬ বছরে মুসলিম বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখি সমবায় সমিতি থেকে ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কাবিল হোসেন সরকার ও কদম আলী মাতবর গং রা। তাদের এই দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে সচেষ্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম গোলাম মোস্তফা। তিনি কাবিল হোসেন সরকারের ছেলে। মোস্তফা নিজেকে বিএনপি নেতা ঘোষণা করে বাজারের নিরহ ব্যবসায়ীদের হুমকি ধমকি দিতে শুরু করেন। কেউ তাদের দুর্নীতি অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদেরকে শারীরিক নির্যাতন করেন। মোস্তফার এক ভাই মূর্তজা এখন জেলে। জুলাই গণহত্যার আসামি। এই কাবিল-কদম গ্রুপ যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের সঙ্গে মিশে যায়। তাদের নির্দিষ্ট কোনো মতাদর্শ নেই।

তারা আরো বলেন, কাবিল হোসেন সরকার ও কদম আলী ২০১৫ সালে একটি আবাসন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে। এই চুক্তি আবার ২০১৭ সালে পুনরায় করা হয়। তখন জমির পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানো হয়। বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে দোকান ভাড়া , জমি ভাড়া ইত্যাদির নাম করে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তাদের এই দুনীর্তি তদন্ত করতে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সমবায় বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ঐক্য পরিষদ সভাপতি বশির উদ্দিন। এরপর বশির উদ্দিনের ওপর তারা চড়ায় হয়। এ নিয়ে পল্লবী থানায় অভিযোগ করা হয়।

বশির উদ্দিন বলেন, আমরা নিজেরা পয়সা তুলে স্থাপনা তুলব। কোনো আবাসন নির্মাণকারীকে আমরা চাই না। আমরা জম জম ডেভালাপারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল চাই। যারা দোকান হারিয়েছেন তাদের কে দোকান ফেরত দেওয়া হোক। যারা জমি হারিয়েছেন তাদের কে জমি ফেরত দেওয়া হোক। যারা দোকানের জন্য অর্থ দিয়েছেন তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হোক। এটাই আমাদের দাবি।

বশির উদ্দিন বলেন, “বাজারের নামে জমির পরিমাণ চার বিঘা ১৭ শতাংশ হলেও ১৯৯১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৩৩ মাসের হিসাব থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ থাকলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তারা দোকানের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়ে ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং জমিদারি ভাড়া বাবদ দোকান মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে প্রায় সাত কোটি টাকা আদায় করেছে।”

তিনি আরও জানান, “জমজম ডেভেলপারকে দেওয়া ১৮ কোটি টাকার ঋণ নথি এবং চুক্তি অনিয়মপূর্ণ ও সাক্ষরবিহীন। এ চুক্তির ভিত্তিতে ডেভেলপার থেকে ১৩ কোটি টাকা নেওয়া হলেও বাজারের নকশা এখনও অনুমোদিত হয়নি, যার কারণে সদস্যরা প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ১৬ বছরের তথ্যসহ জেলা সমবায় অফিসে অভিযোগ করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত টিম গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে বাজারে যে কোনো প্রতিবাদমূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। বাজারের এক সদস্যকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করা হয়েছে এবং অনেকে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন।

মেহেরুন নেছা বলেন, মুসলিম বাজারে আমার চারটি দোকান ছিল। দোকানগুলি মোস্তফার বাপ দখল করেছে। আমি দোকান ফেরত চাই। তিনি বলেন , অনেক ব্যবসায়ী তাদের দুর্নীতি অনিয়মের কারণে দোকান হারিয়েছেন।

মুসলিম বাজারে সর্বমোট ৩৫০টি দোকান আছে। বাজারে ১২০ টি দোকান অবৈধভাবে কেনা বেচা হয়। যার মাধ্যমে ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন কাবিল-কদম গং। এভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি করে তারা শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বশির উদ্দিন, আসিফ এলাহী, বাচ্চু মিয়া, মেহেরুন নেছা, নাজির হোসেন, আর রহমান, আবদুর রশীদ, সৈয়দ মাহামুদুল হাসান।

মুসলিম বাজার বহুমুখি সমবায় সমিতি সাধারণ সম্পাদক এস এম গোলাম মোস্তফার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। যে কারণে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের উত্তর পাওয়া যায়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular