ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশময়মনসিংহগফরগাঁওয়ে জুলাই আন্দোলনে আহত একই পরিবারের তিন যোদ্ধার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

গফরগাঁওয়ে জুলাই আন্দোলনে আহত একই পরিবারের তিন যোদ্ধার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের পাতলাশী গ্রামের ওয়াজেদ আলী ও তার স্ত্রী,সন্তান জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাদের আবেদন থেকে জানা যায়, গত ৫ আগষ্টের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে আহত হয় তিনজন। ওয়াজেদ আলী জানান, তিনি সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং সে সময় তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েও কিছুটা আঘাত পান। পরবর্তী সময়ে আবেদন করে ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী মোছাম্মত রুমি জুলাই যোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে এক লাখ টাকা সরকারি সহায়তা পান। সেই সাথে ওয়াজেদ আলী ও ছেলে অপূর্ব হিমেল রানা গত ২৪ তারিখে জুলাই যোদ্ধাদের সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ের দেওয়া স্বাস্থ্য কার্ড গ্রহণ করেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পরিবারের পক্ষে তিনটি স্বাস্থ্য কার্ড গ্রহণ করেন ওয়াজেদ আলী। এদিকে একই পরিবারে তিন যোদ্ধাকে ভূয়া শনাক্ত করে এলাকাবাসী জালিয়াতির মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধা বনে যাওয়ার অভিযোগ তুলেন। ওয়াজেদ আলী আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন আহমদের নিকট আত্মীয় এবং জুলাই আন্দোলনে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। সেই সাথে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন যে,ওয়াজেদ আলী ও তার ছেলে গত ৫ আগষ্ট বিকেলে নিগুয়ারী ইউনিয়ন বিএনপির আনন্দ মিছিলে হামলা করে পাতলাশি গ্রামের হিরন পালোয়ানকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। সেদিন এলাকাবাসীর গণধোলাইয়ের পর স্বপরিবারে পাশ্ববর্তী শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় আশ্রয় নেয়। ওয়াজেদ আলীর হাতে বল্লমবিদ্ধ হিরন পালোয়ান বলেন, ঘটনার দিন দুপুরের পর আনন্দ মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওয়াজেদ আলীসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এসময় আমার বাম হাতের কব্জিতে ছল (দেশীয় অস্ত্র) দিয়ে আঘাত করলে ডান হাত চেপে মাটিতে বসে পড়ি। পাশে থাকা আমার ছেলে সুজন ওয়াজেদ আলীকে জাপটে ধরে চিৎকার দিলে অন্যরা ছুটে এসে তাকে গণপিটুনি দেয়। এছাড়া এই ঘটনার পর ওয়াজেদ আলী পরিবারসহ মাওনা পালিয়ে যায়। স্থানীয় বিএনপি নেতা ফরিদ খাঁ বলেন, গত ৫ আগষ্ট তিনটার দিকে আনন্দ মিছিল নিয়ে ফেরার পথে ওয়াজেদ ও তার লোকজন আমাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। ওয়াজেদ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিনের গ্রুপ করতেন। গত ৫ আগষ্ট আমাদের উপর হামলাকারী এই ওয়াজেদ এখন পরিবারসহ জুলাই যোদ্ধা বনে গেছেন। পাতলাশি গ্রামের আরও এক প্রত্যক্ষদর্শী সুজন মিয়া বলেন, ঘটনার দিন দুপুরের পর ওয়াজেদ আলীর বাড়ির সামনে শোরগোল শোনে এগিয়ে এসে দেখি ওয়াজেদ ও তার লোকজন বিএনপির আনন্দ মিছিলে অংশ নেওয়া লোকজনের সঙ্গে মারামারি । গত ৫ আগষ্ট ওয়াজেদ আলী বিএনপির আনন্দ মিছিলে হামলা করে জুলাই যোদ্ধা হয় কিভাবে! ওয়াজেদ যা বলছে সবটাই মিথ্যা,জালিয়াতি। এমন অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াজেদ আলীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।এ বিষয়ে জানতে ওয়াজেদ আলীর বাড়িতে গেলে প্রথমে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। পরে স্থানীয়দের চাপে জানান,সেদিন দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় মিছিলে গিয়ে আহত হন।অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে জ্ঞান ফিরে বাড়িতে আসেন।এসে জানতে পারেন স্ত্রী, সন্তান মাওনা এলাকায় মিছিলে গিয়ে আহত হন। তারপর তারা আবেদন করে জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃত পান। ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী মোছাম্মত রুমি সাংবাদিক পরিচয় দিলে কথা বলতে অপারগতা জানান। ছেলে অপূর্ব হিমেল জানান, ফেসবুকে ছাত্রদের আন্দোলনের বিষয় তাকে উজ্জীবিত করে। সেই মোতাবেক ৫ আগষ্ট এগারটায় বাড়ি থেকে বের হয়ে মাওনা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলে যায়। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় অনেকের সঙ্গে সেও আহত হয়। তবে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের স্থানীয় কোনো নেতাকর্মীকে সে চিনেনা। সেদিনের কোনো শ্লোগান, বক্তব্য তার মনে নাই। পড়াশোনা করছে নিগুয়ারী ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন আহমেদ কলেজে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন,আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসার কাগজপত্র জমা দিয়ে যাচাই বাছাই শেষে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তখনকার সময়ে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমি ছিলামনা। এসব বিষয়ে পুনরায় যাচাই কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। এই কমিটির প্রধান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমীর সালমান রনির কাছে ওয়াজেদ আলীর পরিবারের তিন সদস্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওয়াজেদ আলীর বক্তব্য অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হলে রোববার সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular