চট্টগ্রাম প্র্রতিবেদক: নতুন চারটি জাহাজ কিনতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। এরমধ্যে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাঙ্কার এবং দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ। ইতোমধ্যে চীনের সাথে জিটুজি ভিত্তিতে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক (বিএন) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, জি টু জি ভিত্তিতে দুটি ক্রুড ওয়েল মাদার ট্যাঙ্কর এবং দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কিনতে অর্থায়নের জন্য গত ১১ মার্চ ঋণচুক্তিতে চীনা পক্ষের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রতিটি ৪০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ডিডব্লিউটি সম্পন্ন দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাঙ্কার জাহাজ ক্রয় কমিটির সভা গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রক্রিয়াধীন। অপর দুটি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, বিএসসির বহরের বর্তমানের সর্বমোট সাতটি জাহাজ রয়েছে। এগুলো বহুমুখী পণ্য- যেমন, সার, ক্রুড অয়েল, প্রোডাক্ট অয়েল এবং কেমিক্যাল ইত্যাদি পরিবহন করছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের আয় বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাহাজগুলো ভাড়ায় চলাচল করছে।
তিনি জানান, সর্বশেষ অর্থ বছরে (২০২৪-২০২৫) এ ৮০০ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে ৩০৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে বিএসসি। যা বিএসসির ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এর আগে গত বছর এমভি বাংলার প্রগতি ও এমভি বাংলার নবযাত্রা নামে দুটি নতুন জাহাজ কিনেছে বিএসসি। চীনের জিংজিয়াং নানিয়াং শিপবিল্ডিং কো. লিমিটেড এ দুটি জাহাজ সরবরাহ করে।
কমডোর মাহমুদুল মালেক আরও বলেন, ধীরে ধীরে পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে আসতে শুরু করেছে বিএসসি। পর্যায়ক্রমে জাহাজ বাড়ানো হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে লাভজনক এ প্রতিষ্ঠান সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করে দেশে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভুমিকা রাখছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, মহাব্যবস্থাপক অর্থ মো. আজমগীর, নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা, নির্বাহী পরিচালক (প্রযুক্তি) ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইউসুফ, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ক্যাপ্টেন মুজিবুর রহমান প্রমুখ।




