ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিপদোন্নতির দাবি ঘিরে সরকারি ব্যাংকে অস্থিরতা

পদোন্নতির দাবি ঘিরে সরকারি ব্যাংকে অস্থিরতা

নিউজ ডেস্ক : গত সরকারের সময়ে পদোন্নতিতে ‘বৈষম্যের শিকার’ হয়েছেন– সরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মীদের একটি অংশ এমন যুক্তি দিয়ে ঢালাও পদোন্নতি চাচ্ছে। দল বেঁধে কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করছেন। তারা আন্দোলন করছেন।সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এতে এসব ব্যাংকে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর পরিধি বিবেচনায় গত সরকারের সময়ে সব ব্যাংকের নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে প্রতিটি ব্যাংকে অনেক নতুন পদ সৃষ্টি হয়। তবে সরকার পরিবর্তনের পর নির্ধারিত পদ, মেধা বা এসিআরসহ অন্য কোনো বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে ঢালাও পদোন্নতি চাচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। নির্বাহী পদের প্রথম ধাপ সহকারী ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচের সব পদে সমসংখ্যক কর্মী পদোন্নতি পেয়ে যান।

পদ না থাকলেও এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক একযোগে ২ হাজার ২০০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক পদোন্নতি দিয়েছে ৩ হাজার ৮৪ জনকে। জনতা ও রূপালী ব্যাংকেও একইভাবে পদোন্নতির দাবি উঠেছে। এমন এক সময়ে এ পদোন্নতির চাপ দেওয়া হচ্ছে, যখন কোনো কোনো ব্যাংক চরম তারল্য সংকটে ভুগছে। উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতির মতো সমস্যা তো রয়েছেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢালাও পদোন্নতির ফলে একদিকে ব্যাংকের খরচ বাড়বে, অন্যদিকে যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া পদোন্নতি দিলে ভালো কাজ করা কর্মকর্তাদের অনেকেই নিরুৎসাহিত হবেন।

কর্মকর্তাদের দাবি মেনে ২৩ ডিসেম্বর সোনালী ব্যাংক একযোগে ২ হাজার ২০০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর ঢালাও পদোন্নতির দাবিতে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের ঘেরাও করেন। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান প্রথমে তাতে নারাজি ছিলেন। শেষ পর্যন্ত গত ২৯ ডিসেম্ববর রেকর্ড সংখ্যক ৩ হাজার ৮৪ জনকে পদোন্নতি দিয়েছেন। একই দাবিতে জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন চলছে। সম্প্রতি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০১৯ সালের পর পদোন্নতি না পাওয়া সবাইকে একযোগে পদোন্নতি দেওয়ার একটি প্রস্তাব ওঠে। তবে কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তির কারণে শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রূপালী ব্যাংকেও একইভাবে পদোন্নতির আয়োজন চলছে। আর এসব ব্যাংকের পদোন্নতি শেষ হলে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট, বেসিক, বাংলাদেশ কৃষি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকেও পদোন্নতির চাপ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট কর্মী রয়েছেন ২ লাখ ৮ হাজার। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মী সংখ্যা ৪৯ হাজার ১৮৩ জন। বিশেষায়িত তিন ব্যাংকে রয়েছেন ১৩ হাজার ২০৪ জন। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫০৭ জন। আর বিদেশি ব্যাংকে আছেন ৪ হাজার ৭২ জন।

জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে চলমান আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সামনে থাকলেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকেই ২০০৯ সালের পর নিয়োগ পাওয়া। গত সরকারের সময়ে নিয়মিত পদোন্নতি পেয়েছেন এমন অনেকেই এখন বৈষম্যের শিকার দাবি করে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি চাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের পদোন্নতিতে বড় ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ কম। কেননা প্রতিটি ধাপে পদোন্নতি দেওয়া হয় নির্দিষ্ট কিছু মার্কিংয়ের ভিত্তিতে। পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তার সর্বশেষ পাঁচ বছরের এসিআর, চাকরির বয়সকাল, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যাংকিং ডিপ্লোমা বিবেচনায় নেওয়া হয়। ব্যাংকের নির্বাহী পদের প্রথম পর্যায় হিসেবে বিবেচিত সহকারী ব্যবস্থাপক (এজিএম) এবং তদূর্ধ্ব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এসবের পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নম্বর দেওয়া হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular