• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ২৩ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

মালয়েশিয়ান তরুণীকে বিয়ে করলেন লক্ষ্মীপুর জেলার রিয়াজ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ০২ মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৪২ এএম
মালয়েশিয়ান তরুণীকে বিয়ে করলেন লক্ষ্মীপুর জেলার রিয়াজ
মালয়েশিয়ান তরুণী

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশি রিয়াজ উদ্দিনের (৩২) সঙ্গে মালয়েশিয়ান তরুণী নুর আজিরা বিনতে আজহার (৩১) বিয়ে হয়। তাদের মধ্যে ৬ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। ২ লাখ টাকা দেনমোহরে রিয়াজ নুর আজিরা বিনতে আজহারকে ভালোবাসার তরুণীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরপরই সবার উপস্থিতিতে নগদ ২৫ হাজার টাকা, হীরের আংটি ও সমপরিমাণ স্বর্ণালংকার দিয়ে দেনমোহর পরিশোধ করেন রিয়াজ উদ্দিন।

শুক্রবার (১ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের আবিরনগরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন রিয়াজ উদ্দিন ও নুর আজিরা বিনতে আজহার।

রিয়াজ উদ্দিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের আবিনগর এলাকার সাবেক সহকারী সাব রেজিস্ট্রার জামাল উদ্দিনের পুত্র। কনে নুর আজিরা বিনতে আজহার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের আজহা বিন হোসাইন ও নুর আসিকিন বিন আরেফিন দম্পতির কন্যা।

রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে রিয়াজ উদ্দিন মালয়েশিয়াতে যান। এরমধ্যে ৬ বছর আগে একদিন নুর আজিরা বিনতে আজহার একটি ফ্যাশন ডিজাইনের প্রতিষ্ঠানে ক্লাস করার জন্য আসেন। পাশেই রিয়াজ উদ্দিনের দোকান ছিলো। তখন নুর আজিরা বিনতে আজহারের সঙ্গে রিয়াজ উদ্দিনের পরিচয় হয়। প্রথম পরিচয়ের সময় নুর আজিরা বিনতে আজহার মনে করেছিলেন রিয়াজ উদ্দিন ইরান কিংবা সৌদি আরবের। সেই পরিচয় থেকে তাদের প্রেমের সম্পর্ক রূপ ধারণ করে ধারণ করে ।

পরে আজিরা তার মাকে রিয়াজের সম্পর্কে জানায়। এর ২ মাস পরে রিয়াজ ও আজিরার সঙ্গে সরাসরি ভালো লাগার বিষয়ে কথা বলেন। কুয়ালালামপুর শহরের ইস্তেফা সেন্টার থেকে তাদের নতুন সম্পর্কের সূচনা ঘটে। সম্পর্কের প্রথম দিকেই আজিরার মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন রিয়াজ। প্রথমে আজিরার বাবা একটু মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। কিন্তু এখন রিয়াজের সঙ্গে তার শ্বশুর আজহারের ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

নুর আজিরা বিনতে আজহা বলেন, বাংলাদেশি মানুষ খুবই দারুণ এবং শ্রদ্ধাশীল। আমি রিয়াজকে অনেক বেশি ভালোবাসি। কারণ সে খুব ভদ্র এ নম্র স্বভাবের ও অনেক সুন্দর। শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে তাদেন মেয়ের মতো গ্রহণ করেছেন। তাদের সঙ্গে ৪ দিন ছিলাম। আমি আমার পরিবারের মতোই তাদেরকে অনুভব করেছি।

রিয়াজ উদ্দিন বলেন, নুর আজিরা বিনতে আজহার মালয়েশিয়ায় আমাদের দেশের নামে খারাপ কিছু শুনেছে। তবে উড়োজাহাজে এক বাঙালির উপকারে সে মুগ্ধ হয়ে পরে। বিমানবন্দরে নুর আজিরা বিনতে আজহারকে সংশ্লিষ্টরা আমাদের দেশে স্বাগত জানায়। এসব বিষয়ে নুর আজিরা বিনতে আজহার খুবই খুশি। নুর আজিরা বিনতে আজহার এখন বাংলাদেশিদের সম্মান করে। আমি ১ বছর দেশে আছি। এরমধ্যে আজিরা আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকবে। তাকে একবারে দেশে আনার জন্য মালয়েশিয়ার দূতাবাসসহ বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করব।

আজিরার সম্পর্কের রিয়াজ বলেন, আজিরার কোনো ছেলে বন্ধু নেই, এজন্যই আমি তাকে বেশি ভালোবাসি। আর মালয়েশিয়াতে আমি অনেক ধরনের মেয়ে দেখেছি। কিন্তু আজিরার মতো কাউকে পাইনি। ওই দেশের মেয়েদের মধ্যে টাকা পয়সার লোভ থাকে। কিন্তু আজিরার কাছে তেমন কোনো কিছুই দেখিনি। আর আজিরা খুব ভালো মনের অধিকারী।

রিয়াজ উদ্দিনের পিতা জামাল উদ্দিন বলেন, রিয়াজ উদ্দিন আমার ছোট পুত্র। ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করতে চেয়েছি। কিছু জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি । এ বিয়েতে আমরা পুরো পরিবারই আনন্দিত। আগামী শুক্রবারে ছোট করে অনুষ্ঠান করা হবে। নুর আজিরা বিনতে আজহারের স্বজনরা আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কাগজপত্রের জটিলতার কারণে আপাতত আসতে পারবেন না।

রিয়াজের প্রতিবেশী সোহাগ বলেন, ৪ দিন হয়েছে আজিরা এখানে এসেছে। তিনি মিশুক প্রকৃতির মানুষ। রিয়াজের পরিবারের সঙ্গে খুব ভালোভাবেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image