ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeশিক্ষারাবিতে জুলাই কনসার্ট কমিটি না করেই আর্থিক অনুদান চেয়ে চিঠি

রাবিতে জুলাই কনসার্ট কমিটি না করেই আর্থিক অনুদান চেয়ে চিঠি

জুলাই কনসার্টের জন্য কোনো কমিটি না করেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার। এর ফলে ঠিক কতগুলো প্রতিষ্ঠান ওই চিঠির সাড়া দিয়ে অনুদান পাঠিয়েছে, তার কোনো হিসাব জানা যায়নি। বিশাল এ আয়োজনের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই ৩৬, মুক্তির উৎসব’ নামে এই কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেন রাবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার ও ‘ক্যাম্পাস বাউলিয়ানা’ নামের একটি সংগঠনের পরিচালক কে এস কে হৃদয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তারা দুজন ‘অর্গানাইজার-৩৬ জুলাই, মুক্তির উৎসব’ পরিচয় ব্যবহার করে চিঠি পাঠান।

সালাউদ্দিন নিজেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন, অন্তত ৭০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের দেওয়া চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুপারিশও করেছেন। ইতোমধ্যেই রাজশাহী সিটি করপোরেশন তাদের দুই লাখ টাকা প্রদান করেছে। আগামী ৫ আগস্ট এই কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে রাবিতে ‘জুলাই ৩৬, মুক্তির উৎসব’ কনসার্ট আয়োজনের কোনো লিখিত কমিটি নেই। ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ২৪ সদস্যের একটি গ্রুপের মাধ্যমে চলছে কনসার্ট আয়োজনের প্রস্তুতি।

নাম প্রকাশ না করে অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, রাজশাহীতে বড় একটা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটা প্রশংসনীয়। তবে তাদের উচিত ছিল কমিটি করার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে যারা যুক্ত ছিলেন সবাইকে নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। যেহেতু কমিটি নেই, তাই এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, যে কোনো বড় আয়োজন করতে হলে একটি সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এ ঘটনায় দেখা গেছে, কোনো কমিটি করা হয়নি, দুজনে মিলে একটা বিশাল বাজেটের অনুষ্ঠান নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ওই মেসেঞ্জার গ্রুপের সদস্য এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমানের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজশাহীতে যেহেতু জুলাইকেন্দ্রিক বড় কোনো আয়োজন হয়নি, তাই এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জুলাই মাসের শুরুতেই সালাউদ্দিন আমাদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করে। এরপর আমরা গ্রুপে সবকিছু নিয়ে আলাপ করি। কোথায় প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল এবং কী কী করা হচ্ছিল, এসব বিষয় নিয়ে নিয়মিত গ্রুপে আমাদের আলাপ হতো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আমাদের মেসেঞ্জার গ্রুপে সবকিছু নিয়ে আলাপ করেই আগাচ্ছিলাম। স্পন্সর জোগাড় করা হয়ে গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো ও কমিটি ঘোষণা করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। যত বাধাই আসুক, আমরা অনুষ্ঠানটি করব।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular