ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশরায়পুরে ভূমি অফিসের ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, কোষাগারে ফেরত

রায়পুরে ভূমি অফিসের ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, কোষাগারে ফেরত

অডিটে ধরা পড়ার পর টাকা জমা, দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসের সরকারি রাজস্বের ১২ লাখ ৭ হাজার ৯১০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অডিটে বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম এবং সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্ত। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে আদান-প্রদান করা চিঠির অনুলিপি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চান্দিনা ভিটির একসনা লিজমানি বাবদ আদায় করা ১ লাখ ৯ হাজার ১৩০ টাকা এবং ভিপি লিজমানির নথি বাবদ আদায় করা ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। পরে লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়কের নিরীক্ষায় (অডিট) বিষয়টি ধরা পড়ে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসককে টাকা উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুরের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর হাবিবুর রহমান গত ৪ অক্টোবর এক চিঠিতে রায়পুরের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আত্মসাৎ করা টাকা সরকারি কোষাগারে জমা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর রায়পুরের সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা অভিযুক্ত দুই কর্মচারীকে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই চিঠিতে সরকারি অর্থ যথাসময়ে কোষাগারে জমা না দেওয়ার ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে রামগতি উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মনজুরুল আলম গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসককে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, দুটি ডিসিআর বইয়ের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম ওই টাকা আদায় করেন। টাকা আত্মসাতের ঘটনায় নকিব হোসেন শান্তর যোগসাজশ রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে নকিব হোসেন অর্থ আদায় ও জমার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা বিবরণী দাখিল করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে সহযোগিতা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার কর্মস্থলে গিয়েও জাহাঙ্গীর আলমকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

অন্যদিকে, নকিব হোসেন শান্ত বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলমকে বিশ্বাস করে আমি প্রতি মাসের টাকা জমা হয়েছে মর্মে উপজেলা ও জেলা কার্যালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছি। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। আমি আমার নোটিশের জবাব দিয়েছি। পরবর্তী বিষয়টি কর্তৃপক্ষ দেখবেন।’

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, টাকা ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular