ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকআগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে

আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে

নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উস্কানিমূলক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের আত্মরক্ষার অনস্বীকার্য অধিকার আছে বলে পুনরায় জোর দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।।

নিবার (২১ মার্চ) মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ প্রধান তেহরানের ওপর চলমান এই হামলার প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অবৈধ হামলায় ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিশ্ব সংস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে এই মন্তব্য এলো। জাতিসংঘ মহাসচিব উল্লেখ করেছেন যে, সংঘাতের বিস্তার রোধ করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর চালানো এসব হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ অসংখ্য মানুষ ‘শহীদ’ হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকশ নিরপরাধ নারী ও শিশু রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর এই নৃশংস হামলায় আবাসিক এলাকা, ব্যবসায়িক কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোসহ প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির ফলে পুরো ইরানজুড়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

তেহরান ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের এই আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে শুরু করেছে। ইরান এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি ও মার্কিন সম্পদগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।

বিশেষ করে যেসব আঞ্চলিক দেশ আক্রমণকারীদের সহায়তা করছে বা তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে, ইরান তাদের স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হেনেছে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনেই তারা এই পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং তারা কোনোভাবেই তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর এই নগ্ন আঘাত মেনে নেবে না।

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যেন তাদের ভূখণ্ডকে ইরানের ওপর হামলার ‘লঞ্চ প্যাড’ বা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়। তেহরান মনে করে যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা জরুরি।

জাতিসংঘের এই সমর্থন ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা জোরালো করলেও, যুদ্ধের ময়দানে সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বনেতারা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular