নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মনে করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া।
সম্প্রতি রাজধানীতে এক প্রতিবাদ মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, ‘সরকার আমাদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না।’ তার এ মন্তব্যের বিষয় তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি যেসব ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেগুলো কী শুধু কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীরাই করছেন, নাকি অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন?–এ বিষয়ে যুগ্ম কমিশনার মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, ‘তাহলে তাকেই (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে) জিজ্ঞাসা করতে হবে, সে এই বক্তব্য কেন দিল। অবশ্যই আমার মনে হয় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তা না হলে সে এই কথা বলল কেন?’
তবে কী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারব না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তদন্তে ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ সমন্বিতভাবে তদন্ত চালায়।
একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমন নামে একজনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। জাহিদ হাসান ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করে বলেন, গ্রেপ্তার ইমনের যুবলীগ নেতা। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত ১ কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা, এক কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, পাঁচ কেজি মারবেল, দুই কেজি তারকাঁটা (এক ইঞ্চি), ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল ও ১১টি কালো রঙের ‘স্কচটেপ’ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া তিনটি কার্টনভর্তি কাগজের প্রস্তুতকৃত ৯ হাজার পিস মুখোশ, মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক, ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত ‘জাইপান ব্র্যান্ডের’ একটি ‘ব্লেন্ডার’ ও একটি জার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার ইমন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা এক ভ্যানচালকের সহায়তায় অসৎ উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো ইমনের বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময় মিছিলে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছিলেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ইমনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।




