ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকজনঅসন্তোষ বাড়ছে মালয়েশিয়ায়

জনঅসন্তোষ বাড়ছে মালয়েশিয়ায়

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে মালয়েশিয়ায় জনঅসন্তোষ বাড়ছে। শনিবার দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পদত্যাগ দাবিতে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর কেন্দ্রস্থল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ‘তুরুন আনোয়ার’ (আনোয়ার পদত্যাগ করো) স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তারা বেশির ভাগই কালো কাপড় পরে ছিলেন। তারা স্লোগান দিতে দিতে কুয়ালালামপুরের স্বাধীনতা স্কয়ারের দিকে এগিয়ে যান। যেখানে আনোয়ার ইব্রাহিমের পদত্যাগের দাবিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে শীর্ষ বিরোধী নেতাদের বক্তব্য শুনতে কমপক্ষে ১৮ হাজার মানুষ একত্র হন বলে ধারণা পুলিশের।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ক্ষমতায় আসার আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিক্ষোভ আনোয়ার সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

২০২২ সালের নভেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণের আগে সংস্কারবাদী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা আনোয়ার সরকারি রাজস্ব বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের জন্য সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্ধিত বিক্রয় ও পরিষেবা কর এবং ভর্তুকি সমন্বয়। এসব পদক্ষেপ ভোক্তা মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে জনরোষ কমাতে চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নগদ অর্থ বিতরণ, দরিদ্র পরিবারের জন্য বর্ধিত সাহায্য এবং জ্বালানির দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, দেশে ১৮ বছরের ওপরের প্রত্যেক নাগরিককে এককালীন ১০০ রিঙ্গিত সহায়তা দেওয়া হবে। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে এ অর্থ বিতরণ শুরু হবে। সরকার ২০২৫ সালে মোট দেড় হাজার কোটি রিঙ্গিত (৩৫৫ কোটি ডলার) নগদ সহায়তা ব্যয় করবে, যা আগের বরাদ্দের চেয়ে ২০০ কোটি রিঙ্গিত বেশি।

তবে ২৩ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী নুর শাহিরাহ লেমান উদ্বেগ প্রকাশ করেন, নতুন কর ও বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক অবশেষে গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই করগুলো নির্মাতাদের ওপর আরোপ করা হয়। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ, দিনশেষে ওই কর ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়ে আনোয়ারের বিরুদ্ধে তাঁর পদের অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular